সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
শরিফার বাবা শরিক্ষার বিবাহের পূর্বে তার হবু জামাতাকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দারিদ্রোর কারণে তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। শরিফার স্বামী এজন্য শরিফাকে মাঝে মাঝে নির্যাতন করছে।
- ক)(1)
কিশোর আদালত কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়?
- খ)(2)
'আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক'- বুঝিয়ে লিখ।
- গ)(3)
শরিফার স্বামীর অপরাধ যে সামাজিক আইনের লঙ্ঘন তার পরিচয় দাও।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন রোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনটির ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কিশোর অপরাধীদের সংশোধন, পুনর্বাসন এবং তাদের সাধারণ অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখে বিশেষ বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, কারণ আইন কেবল মানুষের দৃশ্যমান কাজকর্ম বা কার্যকলাপের উপর প্রয়োগ করা যায়, তার মানসিক চিন্তা বা অনুভূতির ওপর নয়।
রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও স্বীকৃত বিধিনিষেধ অমান্য করে কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বা সমাজের জন্য ক্ষতিকর বাহ্যিক কোনো আচরণ করে, তবে আইন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মানুষের মনের ইচ্ছা বা সুপ্ত চিন্তার জন্য আইন কাউকে শাস্তি দিতে পারে না; বরং সেই চিন্তা যখন অপরাধমূলক কার্যে রূপান্তরিত হয়, তখনই আইন কার্যকর হয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শরিফার স্বামীর অপরাধটি 'যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০' (সংশোধিত ২০১৮)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবাহের শর্ত হিসেবে বা বিবাহ পরবর্তী সময়ে বর বা কনেপক্ষের নিকট কোনো পক্ষ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থ, সম্পত্তি বা মূল্যবান কোনো দ্রব্য দাবি করা বা গ্রহণ করাই হলো যৌতুক। বাংলাদেশ সরকার যৌতুক প্রথা উচ্ছেদের লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করে, যেখানে যৌতুক দেওয়া, নেওয়া এবং এর জন্য দাবি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শরিফার বাবা বিবাহের পূর্বে হবু জামাতাকে সাইকেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যা যৌতুকের আওতায় পড়ে। পরবর্তীতে দারিদ্র্যের কারণে তা দিতে না পারায় শরিফার স্বামী শরিফার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রব্য দাবি করা এবং তার জন্য নির্যাতন করা যৌতুক নিরোধ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। অতএব, শরিফার স্বামীর এই অপরাধটি ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন রোধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'যৌতুক নিরোধ আইন'-এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর।
উদ্দীপকে যৌতুকের কারণে শরিফার ওপর তার স্বামীর নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে, যা যৌতুক নিরোধ আইনের আওতায় পড়ে। এ ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন (এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নতুন আইন) কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় নারী নির্যাতনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো যৌতুক। এই আইন প্রণয়নের ফলে নিম্নোক্ত দিকগুলো নিশ্চিত হয়েছে:
১. শাস্তির বিধান: আইনটিতে যৌতুক দাবি করা, গ্রহণ করা বা যৌতুক আদায়ে প্ররোচিত করার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যা অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করে।
২. নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: যৌতুকের জন্য নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা রোধ করে পারিবারিক শান্তি বজায় রাখতে এটি বড় ভূমিকা পালন করে।
৩. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: আইনটির প্রয়োগ ও প্রচারের মাধ্যমে সমাজে যৌতুক একটি ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিরোধমূলক মনোভাব তৈরি হয়েছে।তবে কেবল আইন প্রণয়ন করলেই নারী নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। আইনের যথাযথ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ আইনের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। পরিশেষে বলা যায়, যৌতুককেন্দ্রিক নারী নির্যাতন রোধে এবং নারীর মানবিক মর্যাদা সুরক্ষায় যৌতুক নিরোধ আইনটি বাংলাদেশে এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও