কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

সাধন একজন ব্যবসায়ী। কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়ে সে দেখতে পেল এঐ এলাকায় কিছু মাছ বাঁশের মাচায় ঝুলানো। এ বিষয়ে সাধন ঐ এলাকাবাসীর নিকট জানতে চাইল। এলাকাবাসী তাকে জানাল বহুদিন ধরে তারা এভাবে মৎস্য সংরক্ষণ করে আসছে। সাধন। বিষয়টি আগ্রহের সাথে জেনে নিল। সাধন এলাকায় ফিরে এল। পরবর্তী বছর তার মৎস্য খামারের ছোট-বড় মাছ বিক্রয়ের পর কিছু দাহ অবিক্রীত রইল। এ সময় তার গত বছর কুয়াকাটায় দেখা মাছ সংরক্ষণের কথা মনে পড়ল এবং অবিক্রীত মাছগুলো উত্ত পদ্ধতিতে। সংরক্ষণ করে আর্থিকভাবে উপকৃত হলো। সাধন ভাবল এভাবে মাছ সংরক্ষণ সহজ ও লাভজনক।

  1. ক)

    মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কী?

    (1)
  2. খ)

    মাছ পচে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কুয়াকাটায় সাধনের দেখা পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    এভাবে মাছ সংরক্ষণ বেশ সহজ ও লাভজনক কথাটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছ ধরার পর তার গুণাগুণ, খাদ্যমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে দীর্ঘকাল সংরক্ষণের উপযোগী করে তোলার সামগ্রিক কার্যক্রমকে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছ মারা যাওয়ার পর প্রধানত অণুজীবের আক্রমণ এবং এনজাইমের ক্রিয়ার কারণে মাছ পচে যায়।

    মাছ মারা যাওয়ার সাথে সাথে তার প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে মাছে থাকা এনজাইম বা পাচক রস মাছের পেশিকলা ও প্রোটিনকে ভেঙে ফেলে (অটোলাইসিস)। একই সাথে পরিবেশের ও মাছের দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে মাছের চর্বি ও আমিষ পচিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত বিভিন্ন যৌগ (যেমন- ট্রাইমিথাইল অ্যামিন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড) তৈরি করে, যার ফলে মাছ পচে নষ্ট হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কুয়াকাটায় সাধনের দেখা মাছ সংরক্ষণের সনাতন ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিটি হলো 'শুঁটকীকরণ' (Sun Drying)।

    এ পদ্ধতিতে মাছের দেহ থেকে সূর্যের তাপে প্রাকৃতিকভাবে জলীয় অংশ বা আর্দ্রতা কমিয়ে ফেলা হয়। কুয়াকাটা উপকূলীয় এলাকায় বাঁশের মাচা তৈরি করে তার ওপর বা ঝুলিয়ে মাছ রোদে শুকানো হয়। শুঁটকীকরণের ধাপগুলো নিচে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. মাছ বাছাই ও পরিষ্কারকরণ: অবিক্রীত বা সংগৃহীত মাছ ভালো পানিতে ধুয়ে পচা ও আঘাতপ্রাপ্ত মাছ আলাদা করা হয়।
    ২. ড্রেসিং: বড় মাছের ক্ষেত্রে আঁশ, ফুলকা, নাড়িভুঁড়ি বের করে পেটের অংশে চিরে পরিষ্কার করা হয় এবং ছোট মাছ সাধারণত অক্ষত রেখেই ধোয়া হয়।
    ৩. লবণ প্রয়োগ (ঐচ্ছিক): মাছের আকারভেদে কখনো কখনো হালকা লবণ মাখানো হয়।
    ৪. মাচায় শুকানো: প্রস্তুতকৃত মাছ বাঁশের মাচায় ফাঁকা ফাঁকা করে রোদে মেলে দেওয়া হয় বা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ৫-৭ দিন তীব্র রোদে শুকালে মাছের আর্দ্রতা ১৫-২০% এর নিচে নেমে আসে এবং মাছ শক্ত হয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়, যা দীর্ঘকাল নষ্ট না হয়ে ভালো থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "এভাবে মাছ সংরক্ষণ বেশ সহজ ও লাভজনক"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। নিচে এর যৌক্তিক মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. সহজসাধ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: শুঁটকীকরণ একটি প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। এতে কোনো আধুনিক ও ব্যয়বহুল কোল্ড স্টোরেজ, বিদ্যুৎ বা রাসায়নিক প্রিজারভেটিভের প্রয়োজন হয় না। বাঁশ, দড়ি ও রোদ ব্যবহার করে সাধারণ খামারিরা সহজেই এ কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।

    ২. অবিক্রীত মাছের অপচয় রোধ: বাজারে মাছের জোগান বেশি হলে অনেক সময় মাছ অবিক্রীত থেকে যায় বা পানির দামে বিক্রি করতে হয়। শুঁটকীকরণ করার ফলে খামারিদের উৎপাদিত মাছের অপচয় পুরোপুরি বন্ধ হয়।

    ৩. বর্ধিত বাজারমূল্য ও অধিক লাভ: শুঁটকি মাছের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম রয়েছে। অল্প খরচে তাজা মাছ শুঁটকিতে রূপান্তর করে অফ-সিজনে বিক্রি করলে কয়েকগুণ বেশি মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়।

    ৪. সহজ পরিবহন ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ: শুঁটকি মাছ ওজনে অনেক হালকা হয়ে যায় এবং সাধারণ তাপমাত্রায় দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ফলে পরিবহন খরচ কমে এবং সংরক্ষণ করা সহজ হয়।

    অতএব, সাধন যেভাবে অবিক্রীত মাছ শুঁটকীকরণ করে অপচয় রোধ ও আর্থিক মুনাফা অর্জন করেছে, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকীকরণ পদ্ধতি মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহজ ও লাভজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন