সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

স্লোগান-১: 'দুটি সন্তানই যথেষ্ট, একটি হলে ভালো হয়।' স্লোগান-২: 'গাছ লাগান, ধরিত্রী বাঁচান।

  1. ক)

    যৌথ পরিবার কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষমতার ভিত্তিতে পরিবার কয় প্রকার? বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত স্লোগান-১ বাংলাদেশের কোন সমস্যাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত স্লোগান-২ যে সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করে, স্লোগান-১-এ বর্ণিত সমস্যা তার অন্যতম কারণ- এ বিষয়ে তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পরিবারে রক্তসম্পর্কীয় একাধিক প্রজন্মের সদস্য (যেমন: দাদা-দাদি, মা-বাবা, চাচা-ফুফু, ভাই-বোন প্রমুখ) একত্রে একই কর্তৃত্বে বসবাস ও খাওয়া-দাওয়া করে, তাকে যৌথ পরিবার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতার কর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
    ১. পিতৃতান্ত্রিক বা পিতৃপ্রধান পরিবার: যে পরিবারে পিতা বা পুরুষ সদস্যের হাতে পরিবারের যাবতীয় ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকে।
    ২. মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান পরিবার: যে পরিবারে মা বা জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের হাতে পরিবারের যাবতীয় কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত স্লোগান-১ ('দুটি সন্তানই যথেষ্ট, একটি হলে ভালো হয়') বাংলাদেশের 'অতিরিক্ত জনসংখ্যা' বা 'জনসংখ্যা বিস্ফোরণ' জনিত সমস্যাকে নির্দেশ করে।

    বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সীমিত ভূখণ্ডের তুলনায় এখানকার জনসংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, খাদ্য ঘাটতি, নিরক্ষরতা, বাসস্থানের অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার মতো নানাবিধ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

    জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এই স্লোগানটির মাধ্যমে ছোট পরিবারের ধারণাকে উৎসাহিত করছে। জন্মহার রোধ করে একটি সুখী, পরিকল্পিত ও সক্ষম পরিবার গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই স্লোগানটি প্রচার করা হয়। সুতরাং এটি দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত স্লোগান-২ ('গাছ লাগান, ধরিত্রী বাঁচান') পরিবেশগত বিপর্যয় বা পরিবেশ দূষণ ও ভারসাম্যহীনতা সমস্যাকে নির্দেশ করে এবং আমি একমত যে স্লোগান-১ এ বর্ণিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাটি এই পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পরিবেশের ভারসাম্যের একটি প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা মেটাতে প্রতিনিয়ত বনভূমি ও গাছপালা উজাড় করা হচ্ছে। মানুষ তার বসবাসের জন্য নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ, কলকারখানা স্থাপন, রাস্তাঘাট তৈরি এবং কৃষিজমির সম্প্রসারণের জন্য প্রাকৃতিক বন জঙ্গল কেটে সাবাড় করছে।

    গাছপালা কমে যাওয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। এর ফলে খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। অধিক জনসংখ্যার বর্জ্য এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষিত করছে। ফলে ধরিত্রী আজ মারাত্মক পরিবেশগত হুমকির মুখে।

    সুতরাং, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করা হচ্ছে। তাই বলা যায়, পরিবেশ রক্ষা ও ধরিত্রীকে বাঁচানোর জন্য যেমন গাছ লাগানো জরুরি, তেমনই পরিবেশ ধ্বংসের মূল অনুঘটক অতিরিক্ত জনসংখ্যা রোধ করাও আবশ্যক। কাজেই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণরূপে একমত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন