ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

- ক)(1)
প্রলেতারিয়েত অর্থ কী?
- খ)(2)
বলশেভিক বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে, পাঠের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
এক রাজ দম্পতির হত্যাকাণ্ড উক্ত বিষয় উদ্ভবের মূল কারণ- সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘প্রলেতারিয়েত’ (Proletariat) শব্দের অর্থ হলো সর্বহারা বা শ্রমজীবী শ্রেণি, যাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল হলো নিজস্ব শ্রম বিক্রি করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বলশেভিক’ একটি রুশ শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ ‘সংখ্যাগুরু’।
১৯০৩ সালে রাশিয়ান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টির দ্বিতীয় সম্মেলনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে দলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে যে অংশটি দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করে, তাদেরকে ‘বলশেভিক’ বলা হয়। ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে তারা রাশিয়ায় জারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে একদিকে জার্মানি, ইতালি ও অস্ট্রিয়া (ত্রিশক্তি চুক্তি বা ট্রিপল অ্যালায়েন্স) এবং অন্যদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও রাশিয়া (ত্রিশক্তি আঁতাত বা ট্রিপল আঁতাত) দুটি পরস্পরবিরোধী জোটের মুখোমুখি অবস্থান দেখানো হয়েছে। সুতরাং প্রশ্নবোধক স্থানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে (১৯১৪-১৯১৮) ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পাঠের আলোকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. গোপন কূটনীতি ও সামরিক জোট গঠন: ইউরোপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়—জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালির মধ্যে ‘ত্রিশক্তি চুক্তি’ (১৮৮২) এবং এর জবাবে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে ‘ত্রিশক্তি আঁতাত’ (১৯০৭) গড়ে ওঠে। এই পারস্পরিক সামরিক জোট ইউরোপে যুদ্ধের শঙ্কা তীব্র করে।
২. উগ্র জাতীয়তাবাদ: ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর অন্ধ এবং আগ্রাসী জাতীয়তাবাদী মনোভাব (যেমন—প্যান-জার্মানবাদ ও প্যান-স্লাভ আন্দোলন) অন্য দেশের প্রতি বিদ্বেষ বাড়িয়ে তোলে।
৩. সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও উপনিবেশ বিস্তার: শিল্পবিপ্লবের পর কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্য বিক্রির বাজার দখলের জন্য বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে আফ্রিকা ও এশিয়ায় উপনিবেশ স্থাপনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়।
৪. সামরিকীকরণ ও সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতা: ইউরোপীয় শক্তিগুলো একে অপরকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিক মারণাস্ত্র তৈরি শুরু করে, যা সামরিক উত্তেজনা তৈরি করে।এই সামগ্রিক সংঘাতময় পরিস্থিতির ফলেই বিশ্বব্যাপী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা তাৎক্ষণিক কারণ ছিল অস্ট্রিয়ার রাজদম্পতির হত্যাকাণ্ড। তাই প্রশ্নে উল্লেখিত বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যুক্তিযুক্ত। নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. সারায়েভো হত্যাকাণ্ড: ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির যুবরাজ ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রী সোফি বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো শহরে সার্বীয় চরমপন্থী গুপ্ত সংগঠন ‘ব্ল্যাক হ্যান্ড’-এর সদস্য গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ নামক এক যুবকের গুলিতে নিহত হন।
২. চরমপত্র প্রদান ও সার্বিয়া আক্রমণ: অস্ট্রিয়া এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সার্বিয়া সরকারকে সরাসরি দায়ী করে এবং ১৯১৪ সালের ২৩ জুলাই সার্বিয়ার কাছে ১০ দফা সংবলিত একটি কঠোর চরমপত্র পাঠায়। সার্বিয়া অধিকাংশ শর্ত মানলেও অস্ট্রিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে এবং ২৮ জুলাই সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ও বেলগ্রেডে বোমাবর্ষণ শুরু করে।
৩. জোটবদ্ধ রাজনীতির সক্রিয়তা: অস্ট্রিয়া আক্রমণ চালালে স্লাভ ভ্রাতৃত্বের খাতিরে রাশিয়া সার্বিয়ার সমর্থনে সৈন্য সমাবেশ শুরু করে। এর ফলে জার্মানি অস্ট্রিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবং পরে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে বেলজিয়ামের নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের কারণে ব্রিটেনও জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।যদিও উপনিবেশবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সামরিক প্রতিযোগিতা ইউরোপে দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধের বারুদ জমিয়ে রেখেছিল, কিন্তু সারায়েভো হত্যাকাণ্ডই সেই বারুদে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সমগ্র ইউরোপসহ বিশ্বকে প্রত্যক্ষ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয়। অতএব, রাজদম্পতির হত্যাকাণ্ডই ছিল এ মহাযুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও প্রধান স্ফুলিঙ্গ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও