বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নয়া জমিদার আদিলদ্দীন ধরি সকিনারে হাত, কহিল, চল গো সোনার বরণী, মোর ঘরে মোর সাথ!পঙ্খী করিয়া পুষিব তোমারে উড়াব আকাশ ভরি, আমার দুনিয়া রঙিন করিব তোমারে মেহেদী করি।সকিনা কহিল, আপনি মহান, হতভাগিনীর তরে, যাহা করেছেন জিন্দেগী যাবে ঋণ পরিশোধ করে।তবুও আমারে ক্ষমা করিবেন, আপনার ঘরে গেলে, বসিতে হইবে হতভাগিনীরে কলঙ্ক কালি মেলে। আসমান সম আপনার কুল, মোর জীবনের মেঘে, যত চান আর সুরয তারকা সকল ফেলিবে ঢেকে।
- ক)(1)
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়তো?
- খ)(2)
“সাপের বিষ যে বাঙালির বিষ নয়" কথাটি বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের কোন চরিত্রের মিল দেখা যায়? -কীভাবে?
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের সকিনার ভেতরে দোদুল্যমানতা থাকলেও 'বিলাসী' গল্পের বিলাসীর মধ্যে তা নেই।" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়তো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“সাপের বিষ যে বাঙালির বিষ নয়”- কথাটি দিয়ে সাপের বিষের চেয়ে বাঙালি সমাজের পরশ্রীকাতরতা ও হিংসাবিদ্বেষের ভয়াবহতা ও নির্দয়তাকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করা হয়েছে।
'বিলাসী' গল্পে সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর কথক উল্লেখ করেন যে, সাপের বিষে মানুষ সহজে রেহাই পায় না, তা চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় প্রাণঘাতী। কিন্তু বাঙালি সমাজের অন্তরে যে পরনিন্দা, জাত্যাভিমান, কুসংস্কার এবং অপরের অমঙ্গল কামনার বিষ লুকিয়ে থাকে, তা মানুষের আত্মাকে ধ্বংস করে দেয়। সাপের বিষ কেবল শারীরিক মৃত্যু ঘটায়, কিন্তু বাঙালির মানসিক বিষ পুরো মনুষ্যত্ব ও ভালোবাসাকে বিষাক্ত করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আদিলদ্দীনের সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের মিল দেখা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নয়া জমিদার আদিলদ্দীন সামাজিক শ্রেণিভেদের তোয়াক্কা না করে হতভাগিনী সকিনাকে গভীর ভালোবাসায় আপন করে ঘরে তুলতে চায়। সে সকিনাকে রানির মর্যাদায় সুখ ও ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
'বিলাসী' গল্পেও দেখা যায়, সমাজের উচ্চবর্ণের কায়স্থ পরিবারের সন্তান হয়েও মৃত্যুঞ্জয় জাত-পাতের সংকীর্ণতাকে তুচ্ছ করে অন্ত্যজ সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর ভালোবাসাকে গ্রহণ করেছিল। কঠিন অসুস্থতায় বিলাসী যেভাবে সেবা-শুশ্রূষা করে মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচিয়ে তুলেছিল, মৃত্যুঞ্জয় তার সেই আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে বিলাসীকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী করে ঘরে তুলে নিয়েছিল। সমাজের রক্তচক্ষু ও নিন্দা উপেক্ষা করে ভালোবেসে নারীকে মর্যাদা দেওয়ার এই মানসিকতার দিক থেকে আদিলদ্দীনের সঙ্গে মৃত্যুঞ্জয়ের স্পষ্ট মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের সকিনার ভেতরে দোদুল্যমানতা থাকলেও 'বিলাসী' গল্পের বিলাসীর মধ্যে তা নেই”— মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের সকিনা আদিলদ্দীনের মহানুভবতা ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞ হলেও সামাজিক কলঙ্ক, বংশমর্যাদার পার্থক্য ও অপবাদের ভয়ে আদিলদ্দীনের ঘরে যেতে দ্বিধাবোধ করে। আদিলদ্দীনের উচ্চবংশের সুনাম যেন তার কলঙ্কিত জীবনের মেঘে ঢাকা না পড়ে, সেই শঙ্কায় সে পিছিয়ে আসে। এখানে সকিনার অন্তরে ভালোবাসা থাকলেও সামাজিক বিধিনিষেধ ও আত্মগ্লানির কারণে সিদ্ধান্তহীনতা ও দোদুল্যমানতা কাজ করেছে।
অন্যদিকে, 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ও আত্মবিশ্বাসী। সে মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলে এবং নিঃসংকোচে মৃত্যুঞ্জয়ের ঘরে তার স্ত্রী হিসেবে স্থান গ্রহণ করে। গ্রামের সমাজপতিরা ও মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া যখন তাদের সম্পর্কের ওপর আঘাত হানে, শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করে বিলাসীকে তাড়িয়ে দিতে চায়, বিলাসী তখন একবিন্দু দ্বিধা বা দোদুল্যমানতা দেখায়নি। বরং সে গভীর ধৈর্য, ভালোবাসা ও অটল চিত্তে সমস্ত অপমানের মোকাবিলা করে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে অবিচল থেকেছে। এমনকি মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর সে বিষপানে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়, তবু ভালোবাসার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে দেয়নি।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের সকিনা যেখানে লোকলজ্জা ও সামাজিক মর্যাদার চাপে আদিলদ্দীনের ভালোবাসা গ্রহণ করতে দোটানায় ভুগেছে, সেখানে বিলাসী ছিল দ্বিধাহীন, নির্ভীক ও ভালোবাসায় দৃঢ়সংকল্প। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও