গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:X: মোম, মধু, রঞ্জনY: পটাশিয়াম বাইকার্বনেট, কপার সালফেটZ: পটাশিয়াম বাইক্রোমেট, কাপড় কাচার সোডা

  1. ক)

    ইয়ার্ন ডাইং কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃত্রিম রং এর স্থায়িত্ব বেশি— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'X' উপকরণের সাহায্যে কোন ধরনের বস্ত্র ছাপা করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'Y' এবং 'Z' অংশের রং করণের মধ্যে যে প্রক্রিয়াগত পার্থক্য রয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বস্ত্র বোনার আগে সুতা অবস্থায় রং করার প্রক্রিয়াকে ইয়ার্ন ডাইং (Yarn Dyeing) বা সুতা রঞ্জন বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃত্রিম রং রাসায়নিক উপায়ে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়। এসব রঙের অণুগুলো বস্ত্রের তন্তুর অণুর সাথে খুব মজবুত রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে প্রবেশ করে এবং আবদ্ধ হয়। এর ফলে ধোয়া, ঘর্ষণ, সূর্যের আলো ও তাপের প্রভাবে কৃত্রিম রং সহজে নষ্ট বা হালকা হয় না। তাই প্রাকৃতিক রঙের তুলনায় কৃত্রিম রঙের স্থায়িত্ব অনেক বেশি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'X' উপকরণের (মোম, রজন বা গঁদ) সাহায্যে 'বাটিক' পদ্ধতিতে বস্ত্র ছাপা করা হয়।

    বাটিক হলো একটি প্রতিরোধক (resist) রঙের ছাপার কৌশল। এই পদ্ধতিতে কাপড়ের যেসব অংশে রং লাগাতে চাওয়া হয় না, সেখানে তরল মোম ও রজনের মিশ্রণ ব্রাশ বা ব্লকের সাহায্যে নকশা অনুযায়ী লাগানো হয়। এরপর কাপড়টিকে ঠান্ডা রঙের দ্রবণে ডুবিয়ে রং করা হয়। মোম দেওয়া অংশে রং প্রবেশ করতে পারে না। সবশেষে গরম পানিতে কাপড় ফুটিয়ে মোম তুলে ফেলা হয়, ফলে মোম লাগানো অংশের নকশাটি ফুটে ওঠে। সুতরাং, উদ্দীপকের X উপাদানগুলো বাটিক ছাপার মূল প্রতিরোধক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'Y' অংশে উল্লিখিত রাসায়নিক উপাদানগুলো হলো পটাশিয়াম বাইকার্বনেট ও কপার সালফেট এবং 'Z' অংশে রয়েছে পটাশিয়াম বাইক্রোমেট ও কাপড় কাচার সোডা। এগুলো বস্ত্র রঞ্জন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান ও মর্ডান্টের কাজ করে, যার মধ্যে প্রক্রিয়াগত পার্থক্য রয়েছে:

    ১. রাসায়নিক প্রকৃতি ও ভূমিকা: 'Y' অংশে কপার সালফেট মূলত একটি ধাতব লবণ (মর্ডান্ট) যা রঙের উজ্জ্বলতা ও রঙের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য কাপড়ে প্রয়োগ করা হয়। অপরদিকে, 'Z' অংশের পটাশিয়াম বাইক্রোমেট একটি শক্তিশালী জারক পদার্থ এবং ধাতব মর্ডান্ট যা বিশেষত রঙের শেড গাঢ় করতে এবং পাকা করতে ব্যবহৃত হয়।
    ২. প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি: কপার সালফেট ও পটাশিয়াম বাইকার্বনেট সাধারণত ক্ষারীয় বা মৃদু মাধ্যমে বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং নির্দিষ্ট রঙের ক্ষেত্রে তন্তুর সাথে রঙের সংযোজন ঘটাতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, পটাশিয়াম বাইক্রোমেট ও কাপড় কাচার সোডা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্ষারীয় পরিবেশে কাপড় প্রক্রিয়াজাত করে পরে ক্রোম ডাইং বা জারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রং স্থায়ী করা হয়।
    ৩. রঙের রঙের স্থায়িত্ব ও শেড পরিবর্তন: 'Y' মিশ্রণ ব্যবহারে সাধারণত নির্দিষ্ট শেডের (যেমন নীলচে বা সবুজাভ) রঙের স্থায়িত্ব আনা হয়, পক্ষান্তরে 'Z' মিশ্রণটি রঙের অক্সিডেশন ঘটিয়ে দ্রুত রং বসাতে ও কাপড়ের ক্ষারীয় প্রভাবে রং টেকসই করতে কাজ করে।

    অতএব, তন্তুর সাথে রঙের বিক্রিয়া, মাধ্যমের ক্ষারত্ব এবং রঙের জারণ ও স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে 'Y' এবং 'Z'-এর প্রক্রিয়াগত সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন