যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্য-১: মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়ায় দাদা বললো, এটা ভূতে নিয়ে গেছে। শিক্ষিত নাতি হাতের ছাপ পরীক্ষা করে প্রকৃত চোর শনাক্ত করলো। দৃশ্য-২: নাতির জ্বর হওয়ায় দাদী বললো- "বেশি করে আইসক্রিম খেলে জ্বর ভাল হয়ে যাবে।"
- ক)(1)
আরোহ সমন্বয় কী?
- খ)(2)
কর্তা সংক্রান্ত প্রকল্প বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
দৃশ্য-২ এ দাদীর বক্তব্যে প্রকল্পের কোন শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-১ প্রকল্প প্রমাণের যে পদ্ধতিকে অনুসরণ করেছে সেটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি বিশেষ ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য গৃহীত প্রকল্প যখন একই সাথে আরও অন্যান্য অপ্রকাশিত বা অপ্রাসঙ্গিক ভিন্ন ধরনের ঘটনাকেও সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়, তখন তাকে আরোহ সমন্বয় (Consilience of Inductions) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যখন ঘটনার নিয়ম বা পরিস্থিতি জানা থাকে কিন্তু ঘটনার পেছনের কার্যকারী ব্যক্তি বা এজেন্ট (কর্তা) অজ্ঞাত থাকে, তখন সেই সম্ভাব্য কর্তাকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে যে আনুমানিক ধারণা করা হয়, তাকে কর্তা সংক্রান্ত প্রকল্প বলে। যেমন—একটি ঘরে চুরি হওয়ার পর চুরির নিয়ম বা পরিস্থিতি বোঝা গেলেও কে চুরি করেছে তা জানার জন্য সম্ভাব্য ব্যক্তির ওপর যে ধারণা করা হয়, তা কর্তা সংক্রান্ত প্রকল্প।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-২ এ দাদীর বক্তব্যে প্রকল্পের 'বাস্তবসম্মত বা স্ববিরোধীহীন হওয়া' এবং 'জ্ঞাত নিয়মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া'-এর শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে।
বৈধ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রকল্পকে বাস্তব ও সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়া চলবে না এবং এটি পরস্পরবিরোধী হতে পারবে না। সাধারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতালব্ধ সত্য অনুযায়ী আইসক্রিম খেলে শরীর ঠান্ডা হয়ে সর্দি-জ্বর বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু দাদীর অনুমান—"বেশি করে আইসক্রিম খেলে জ্বর ভাল হয়ে যাবে"—বাস্তব সত্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং অযৌক্তিক। তাই দাদীর এই বক্তব্যে বৈধ প্রকল্পের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-১ এ প্রকল্প প্রমাণের পরীক্ষামূলক বা প্রত্যক্ষ যাচাইকরণ (Direct Verification) এবং প্রতিযোগী প্রকল্প অপনয়ন (Elimination of Rival Hypotheses) পদ্ধতিকে অনুসরণ করা হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় কোনো প্রকল্প প্রমাণ করার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। দৃশ্য-১ এ দাদা মোবাইল হারানোর পেছনে 'ভূতে নিয়ে গেছে' বলে একটি ভিত্তিহীন বা অলীক কল্পনা করেন, যা বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের শর্তবিরোধী। অপরদিকে, শিক্ষিত নাতি বাস্তব প্রমাণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ উপায়ে আঙ্গুলের ছাপ (Fingerprint) পরীক্ষা করে। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায় যে প্রকৃত চোর কে ছিল। এর মাধ্যমে দাদার অলীক অনুমানটি বাতিল (অপনীত) হয়ে যায় এবং প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সত্যতা প্রমাণিত হয়। অতএব, দৃশ্য-১ এ আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকল্প নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি অনুসৃত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও