জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : পরিপাক ও শোষণ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ব্যারিয়াট্রিকস কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পিত্তরসের কাজ লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'Y' অংশ দ্বারা নিঃসৃত এনজাইম কীভাবে আমিষজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে, তা বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'X' অঙ্গের বিপাকীয় ভূমিকার বিবরণ দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায় স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা (যেমন: ব্যরিয়াট্রিক সার্জারি) নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে ব্যরিয়াট্রিকস (Bariatrics) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পিত্তরসের প্রধান কাজগুলো নিম্নরূপ:
    ১. অম্লত্ব প্রশমন: পাকস্থলী থেকে ডিওডেনামে আসা অ্যাসিডিক কাইমকে ক্ষারীয় মাধ্যমে পরিণত করে, যা অন্ত্রের এনজাইমগুলোর কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
    ২. চর্বির ইমালসিফিকেশন: পিত্তলবণ (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম তাওরোকোলেট) চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে ইমালসিফাই করে, ফলে লাইপেজ এনজাইমের ক্রিয়া সহজ হয়।
    ৩. শোষণ সহায়তা: চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) এবং ফ্যাটি অ্যাসিড শোষণে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'Y' অংশটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। অগ্ন্যাশয়রস থেকে নিঃসৃত প্রোটিওলাইটিক (আমিষ পরিপাককারী) এনজাইমগুলো নিম্নোক্তভাবে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটায়:

    ১. ট্রিপসিন (Trypsin): নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন অন্ত্রের এন্টারোকাইনেজ দ্বারা সক্রিয় ট্রিপসিনে রূপান্তরিত হয়। এটি প্রোটিন ও পেপটোনকে ভেঙে ক্ষুদ্র পেপটাইড বা পলিপেপটাইডে পরিণত করে।
    প্রোটিন + পেপটোন —(ট্রিপসিন)→ ক্ষুদ্র পেপটাইড

    ২. কাইমোট্রিপসিন (Chymotrypsin): ট্রিপসিন দ্বারা নিষ্ক্রিয় কাইমোট্রিপসিনোজেন সক্রিয় কাইমোট্রিপসিনে পরিণত হয়। এটি প্রোটিন ও পেপটাইডকে ভেঙে আরও সরল পেপটাইডে রূপান্তর করে।
    প্রোটিন / পেপটাইড —(কাইমোট্রিপসিন)→ ক্ষুদ্র পেপটাইড

    ৩. কার্বক্সিপেপটাইডেজ (Carboxypeptidase): এটি পলিপেপটাইডের C-প্রান্তীয় পেপটাইড বন্ধন ভেঙে সরল পেপটাইড ও মুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে।

    ৪. অ্যামিনোপেপটাইডেজ ও ট্রাইপেপটাইডেজ/ডাইপেপটাইডেজ: অগ্ন্যাশয়রসে উপস্থিত এসব এনজাইম যথাক্রমে পেপটাইডের N-প্রান্ত এবং ডাইপেপটাইড/ট্রাইপেপটাইডকে ভেঙে একক অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করে।

    এভাবে অগ্ন্যাশয়রসের এনজাইমগুলো জটিল আমিষকে ভেঙে রক্তে শোষণোপযোগী একক উপাদান অ্যামিনো অ্যাসিডে রূপান্তর করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'X' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো যকৃৎ (Liver), যা মানবদেহের "জৈব রসায়নাগার" (Organic Laboratory) নামে পরিচিত। এর প্রধান বিপাকীয় ভূমিকাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. কার্বোহাইড্রেট বিপাক:

    • গ্লাইকোজেনেসিস: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ইনসুলিনের প্রভাবে যকৃৎ অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে।
    • গ্লাইকোজেনোলাইসিস: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে প্রবেশ করে।
    • নিওগ্লুকোজেনেসিস: প্রয়োজনে অশর্করা উৎস (যেমন: অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্লিসারল) থেকে যকৃতে গ্লুকোজ তৈরি হয়।

    ২. প্রোটিন বিপাক:

    • ডিঅ্যামিনেশন: অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে অ্যামিনো মূলক (-NH₂) অপসারণ করে কিটো অ্যাসিড তৈরি করে। অপসারিত অ্যামিনো মূলক থেকে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হয়।
    • ইউরিয়া সৃষ্টি: অর্নিথিন চক্রের মাধ্যমে বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে কম বিষাক্ত ইউরিয়ায় পরিণত করে, যা রেচনের মাধ্যমে নির্গত হয়।
    • প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষ: যকৃৎ অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রম্বিন সংশ্লেষ করে।

    ৩. লিপিড বিপাক:

    • অতিরিক্ত শর্করাকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে মেদ হিসেবে সঞ্চয় করে।
    • চর্বি ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল তৈরি এবং বিটা-জারণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে। এছাড়া কোলেস্টেরল ও পিত্তলবণ তৈরি করে।

    ৪. লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন বিপাক:

    • পুরনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন তৈরি করে এবং পিত্তের মাধ্যমে অপসারণে ভূমিকা রাখে।

    ৫. বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয়করণ (Detoxification):

    • দেহে প্রবেশ করা বা বিপাকে সৃষ্ট বিভিন্ন বিষাক্ত ড্রাগস, অ্যালকোহল ও রাসায়নিক পদার্থকে জারণ বা সংশ্লেষণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন