বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ব্যাংক ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন অত্যন্ত সরলমনা ও উদার প্রকৃতির মানুষ। ব্যাংকের প্রতিটি কর্মচারীকে তিনি অগাধ বিশ্বাস করেন। তাঁর মামার অনুরোধে মাকসুদ হাসান নামের এক ব্যক্তিকে তিনি ক্যাশিয়ার পদে নিয়োগ দেন এবং সিন্দুকের চাবি হস্তান্তর করেন। একদিন রাতের অন্ধকারে নৈশ প্রহরীর সহায়তায় মাকসুদ হাসান ব্যাংকের সকল অর্থসম্পদ আত্মসাত করে আত্মগোপন করেন।
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রথম সংলাপ কার?
- খ)(2)
রবার্ট ক্লাইভ নারীর ছদ্মবেশে মিরনের বাড়ি এসেছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের যে বিষয়গুলো 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার তুলনামূলক আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
নবাব সিরাজউদ্দৌলার অদূরদর্শিতাসমূহ উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজারের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রথম সংলাপটি ইংরেজ ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে গোপন চক্রান্ত ও বিশ্বাসভঙ্গের চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রবার্ট ক্লাইভ অত্যন্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে এবং সকলের চোখ ফাঁকি দিতে নারীর ছদ্মবেশে পালকিতে চড়ে মিরনের বাড়িতে এসেছিলেন।
মীরজাফরের পুত্র মিরনের বাড়িতে নবাববিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে যেন ইংরেজদের উপস্থিতির বিষয়টি নবাবের কোনো গুপ্তচর বা সাধারণ মানুষের নজরে না পড়ে, সেজন্য রবার্ট ক্লাইভ এমন ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অতিবিশ্বাস, ঘনিষ্ঠদের দ্বারা প্রতারিত হওয়া এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়ার বিষয়টি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল কাহিনীর সাথে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন দেশপ্রেমিক ও সরল মনের অধিকারী। তিনি তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফরকে বারবার বিশ্বাস করেছেন এবং পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করার পর তাকে ক্ষমা করে সেনাবাহিনীর প্রধান দায়িত্বে বহাল রেখেছেন। কিন্তু মীরজাফর, জগৎশেঠ ও ঘসেটি বেগমরা তাঁর এই সরলতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে।
উদ্দীপকে ব্যাংক ম্যানেজার মনোয়ার হোসেনও সরলমনা ও উদার প্রকৃতির মানুষ। তিনি কর্মচারীদের অগাধ বিশ্বাস করতেন এবং মামার সুপারিশে মাকসুদ হাসানকে ক্যাশিয়ার পদে নিয়োগ দিয়ে সিন্দুকের চাবি সঁপে দেন। কিন্তু মাকসুদ নৈশ প্রহরীর সাথে ষড়যন্ত্র করে ব্যাংকের অর্থ লুট করে পালায়। উদ্দীপকের মনোয়ার হোসেনের অতিবিশ্বাস এবং মাকসুদের বিশ্বাসভঙ্গ যেমন ফুটে উঠেছে, নাটকে নবাবের অতিবিশ্বাস এবং মীরজাফরের কূট বিশ্বাসঘাতকতায় তা হুবহু প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার অতিবিশ্বাস, শত্রুর স্বরূপ চিনতে ভুল করা এবং পরিণাম না ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অদূরদর্শিতাসমূহ উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজারের আচরণের মাধ্যমে যথাযথভাবে স্পষ্ট হয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বহুবার অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বিশেষ করে মীরজাফরের মতো চক্রান্তকারী ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিকে চিনেও তাকে চরম মুহূর্তে বিশ্বাস করা এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ছিল তাঁর মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল। ইংরেজ ও অমাত্যদের ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেননি। পলাশীর ময়দানে মীরজাফরের পরামর্শ শুনে যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি চরম অদূরদর্শিতা দেখান, যার পরিণতিতে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়।
উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজার মনোয়ার হোসেনও একইভাবে চরম অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব ও নিরাপত্তার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে তিনি কেবল মামার অনুরোধে মাকসুদ হাসানকে অতি সংবেদনশীল ক্যাশিয়ার পদে বসান এবং কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সিন্দুকের চাবি হস্তান্তর করেন। মানুষের ওপর অতিবিশ্বাস ও অন্ধ নির্ভরতা যেমন ম্যানেজার মনোয়ার হোসেনকে সর্বস্বান্ত করেছে, তেমনই সিরাজউদ্দৌলার অতিরিক্ত সরলতা ও বিশ্বাসপ্রবণ অদূরদর্শিতা তাঁকে এবং পুরো দেশকে পরাধীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। সুতরাং, উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজারের কর্মধারার সাথে সিরাজউদ্দৌলার অদূরদর্শিতার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও