উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
আলু উৎপাদনে দেশের বৃহত্তম জেলা হলো জয়পুরহাট। উন্নতমানের আলু উৎপাদন হওয়ায় প্রতি বছর দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এ কথা ভেবে জনাব ওমর ফারুক প্রতি বছর আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং আলুর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাছাই করেন। এতে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী আলু ক্রয় করতে পারে। এর ফলে চাষী ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হয়।
- ক)(1)
ক্রয় কী?
- খ)(2)
কীভাবে স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব ওমর ফারুক কর্তৃক স্থাপিত সংরক্ষণ পদ্ধতি কোন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী আলু পেতে উদ্দীপকে যে বিপণন কার্য সম্পাদন করা হয়েছে তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থ বা মূল্যের বিনিময়ে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার নিকট পণ্যের মালিকানা হস্তান্তর করার প্রক্রিয়াকে ক্রয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি হয়।
উৎপাদক বা বিক্রেতার কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ক্রেতা বা ভোক্তার কাছে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হলে ক্রেতা পণ্যটি ভোগ বা ব্যবহারের পূর্ণ আইনগত অধিকার পায়। এভাবে মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে পণ্যের যে উপযোগ বা অভাব পূরণের ক্ষমতা তৈরি হয়, তাকে স্বত্বগত উপযোগ বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব ওমর ফারুক কর্তৃক স্থাপিত সংরক্ষণ পদ্ধতি সময়গত (বা কালগত) উপযোগ সৃষ্টি করে।
এক সময়ে উৎপাদিত পণ্য অন্য সময়ে ভোগের ব্যবস্থা করা বা পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান দূর করার কাজকে গুদামজাতকরণ বা সংরক্ষণ বলা হয়। এই সংরক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সময়গত উপযোগ সৃষ্টি হয়, যা পণ্যের মান অক্ষুণ্ণ রেখে সারা বছর বা পরবর্তী সময়ে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে জনাব ওমর ফারুক আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন, যার ফলে মৌসুমের আলু নষ্ট না হয়ে সারা বছর দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে। সুতরাং, তাঁর এই সংরক্ষণ কার্যক্রম সময়গত উপযোগ সৃষ্টি করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী আলু পেতে উদ্দীপকে যে বিপণন কার্যটি সম্পাদন করা হয়েছে তা হলো 'প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণ' (প্রধানত পর্যায়িতকরণ বা Grading)। আধুনিক বিপণনে এর গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পূর্বে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বা গ্রেডে বিন্যস্ত করার কাজকে পর্যায়িতকরণ বলে। এর ফলে পণ্যের প্রকৃতি, আকার, ওজন ও গুণাগুণের ভিত্তিতে পৃথক দল তৈরি করা যায়, যা বিপণন প্রক্রিয়াকে সহজ ও গতিশীল করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব ওমর ফারুক আলুর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাছাই করেন, যার ফলে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী সহজে নির্দিষ্ট মানের আলু ক্রয় করতে পারে। এর সুফল হিসেবে চাষী তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় এবং ভোক্তাও সঠিক মূল্যে প্রত্যাশিত পণ্য ভোগ করতে পারে।
বিপণন কার্যাবলিতে পর্যায়িতকরণের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে দরকষাকষির জটিলতা দূর করে, পণ্যের প্রদর্শন ও বিক্রয় সহজ করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। এর মাধ্যমে উৎকৃষ্ট মানের আলু বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সহজ হয়। তাই উদ্দীপকে সম্পাদিত বাছাইকরণ বা পর্যায়িতকরণ বিপণন ব্যবস্থায় ক্রেতা সন্তুষ্টি ও ব্যবসায়িক সাফল্য উভয় নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও