জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
গ্লুকোনিয়োজেনেসিস কাকে বলে?
- খ)(2)
লালারসের উপাদানের ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' অংশে লিপিড জাতীয় খাদ্য পরিপাক ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' এর বিপাকীয় ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ-কার্বোহাইড্রেট উৎস (যেমন- অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্লিসারল, ল্যাকটিক অ্যাসিড ইত্যাদি) থেকে গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়াকে গ্লুকোনিওজেনেসিস (Gluconeogenesis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লালারস হলো লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত সামান্য অম্লীয় তরল। এর প্রধান উপাদানসমূহ নিম্নরূপ:
১. পানি: লালারসের প্রায় ৯৯.৫% হলো পানি, যা খাদ্যকে সিক্ত ও নরম করে গিলতে সাহায্য করে।
২. অজৈব উপাদান: এতে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড ও বাইকার্বনেট আয়ন থাকে।
৩. জৈব উপাদান:- এনজাইম: শ্বেতসার পরিপাককারী টায়ালিন (লালা অ্যামাইলেজ) এবং মল্টেজ এনজাইম থাকে। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী লাইসোজাইম থাকে।
- মিউসিন: এটি খাদ্যকে পিচ্ছিল করে গিলতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'X' চিহ্নিত অংশটি হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম। ডিওডেনামে লিপিড বা স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পিত্তলবণের ভূমিকা (ইমালসিফিকেশন): যকৃত থেকে আসা পিত্তরসের পিত্তলবণ (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টরোকোলেট) চর্বির বড় বড় কণাকে ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফোঁটায় পরিণত করে, যাকে ইমালসিফিকেশন বলে। এর ফলে এনজাইমের কাজের ক্ষেত্র বৃদ্ধি পায়।
২. অগ্ন্যাশয়রস দ্বারা পরিপাক:
- প্যানক্রিয়াটিক লাইপেজ: ইমালসিফাইড ফ্যাটকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও মনোগ্লিসারাইডে (বা গ্লিসারল) পরিণত করে।
- ফসফোলাইপেজ: ফসফোলিপিডকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও লাইসোফসফোলিপিডে রূপান্তরিত করে।
- কোলেস্টেরল এস্টারেজ: কোলেস্টেরল এস্টারকে ভেঙে ফ্রি কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত করে।
৩. অন্ত্ররস দ্বারা পরিপাক:
- অন্ত্রীয় লাইপেজ: অবশিষ্ট চর্বিকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
- মনোগ্লিসারিডেজ: মনোগ্লিসারাইডকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল উৎপন্ন করে।
এভাবে 'X' অংশে বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় লিপিড সরল ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে রূপান্তরিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' অংশটি হলো মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি যকৃত (Liver)। যকৃতকে দেহের প্রধান জৈব রসায়নাগার বলা হয়। বিপাকে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শর্করা বিপাক:
- গ্লাইকোজেনেসিস: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে ইনসুলিনের প্রভাবে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃত গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে।
- গ্লাইকোজেনোলাইসিস: রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে মিশে।
- গ্লুকোনিওজেনেসিস: দেহে শর্করার ঘাটতি হলে যকৃতে অ-শর্করা উৎস থেকে গ্লুকোজ সংশ্লেষিত হয়।
২. প্রোটিন বিপাক:
- ডিঅ্যামিনেশন: অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের ডিঅ্যামিনেশনের মাধ্যমে কিটো অ্যাসিড এবং ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে।
- ইউরিয়া সংশ্লেষণ: আর্নিথিন চক্রের মাধ্যমে বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে কম ক্ষতিকর ইউরিয়ায় রূপান্তর করে।
- প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ: অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন ও প্রথম্বিনের মতো রক্ততঞ্চনকারী প্রোটিন তৈরি করে।
৩. লিপিড বিপাক:
- ফ্যাটি অ্যাসিড জারণ: ফ্যাটি অ্যাসিডের বিটা-অক্সিডেশনের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে।
- কোলেস্টেরল ও পিত্তলবণ সংশ্লেষণ: ফ্যাটের পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় পিত্তলবণ এবং কোষের জন্য কোলেস্টেরল প্রস্তুত করে।
৪. আরবিসি ও হিমোগ্লোবিন বিপাক: বয়োবৃদ্ধ লোহিত রক্তকণিকাকে ভেঙে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন তৈরি করে এবং পিত্তের মাধ্যমে অপসারণ করে।
৫. বিষাক্ত উপাদান দূরীকরণ (ডিটক্সিফিকেশন): রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর ড্রাগ, অ্যালকোহল ও বিষাক্ত উপাদান নিষ্ক্রিয় করে শরীরকে সুস্থ রাখে।
সুতরাং, উল্লিখিত বিপাকীয় ভূমিকার কারণে যকৃত আমাদের সার্বিক বিপাক নিয়ন্ত্রণ ও জীবনরক্ষায় অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও