সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

মাসুদ তার এলাকার ৫০০ জন নারীর মধ্যে ২০০ জনের নিকট হতে একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে কিছু উপাত্ত সংগ্রহ করে। সে নারী স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয় ইত্যাদি বিষয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলো সারণির মাধ্যমে, তার প্রতিবেদনে উপস্থাপন করে। প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে ফলাফল প্রকাশ করার পাশাপাশি সে তার এলাকার নারী উন্নয়নে কিছু সুপারিশ সংযোজন করে।

  1. ক)

    সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    সমাজের জৈবিক উপাদান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন গবেষণা পদ্ধতির উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বর্ণনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধাপসমূহ যথাযথ অনুসরণ করা হয়েছে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজবিজ্ঞানী টি. বি. বটমোরের মতে, সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান উপাদান চারটি (ভৌগোলিক, জৈবিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত উপাদান)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজের জৈবিক উপাদান বলতে মানুষের বংশগতি, শারীরিক গঠন, যৌনভেদ, রক্তের সম্পর্ক, জাতিগত বৈশিষ্ট্য এবং জনসংখ্যার আকার বা ঘনত্ব সংক্রান্ত উপাদানসমূহকে বোঝায়। এই উপাদানগুলো মানুষের শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য, বংশানুক্রমিক গুণাবলি এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও সামাজিক স্তরবিন্যাস গঠনে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান পদ্ধতি 'জরিপ পদ্ধতি' (Survey Method)-এর উল্লেখ করা হয়েছে।

    জরিপ পদ্ধতি হলো এমন একটি বহুল ব্যবহৃত গবেষণা কৌশল, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সমগ্রক (Population) থেকে সুনির্দিষ্ট নমুনা (Sample) নির্বাচন করে প্রশ্নপত্র বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রত্যক্ষ উপাত্ত বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মাসুদ তার এলাকার সমগ্রক ৫০০ জন নারীর মধ্য থেকে নমুনা হিসেবে ২০০ জন নারীর নিকট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয় ইত্যাদি বিষয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। প্রশ্নপত্রের সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ ও তার সারণিবদ্ধ উপস্থাপন জরিপ পদ্ধতিরই বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, উদ্দীপকে জরিপ পদ্ধতির সফল প্রয়োগ দেখানো হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বর্ণনায় গবেষণার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধাপসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে—উক্তিটি যথার্থ।

    একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সমস্যা নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নির্ধারণ, নমুনা চয়ন, উপাত্ত সংগ্রহ, উপাত্ত সারণিবদ্ধকরণ ও বিশ্লেষণ, ফলাফল প্রস্তুত এবং সুপারিশ প্রণয়ন—এই পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো অনুসরণ করা আবশ্যক।

    উদ্দীপকে মাসুদ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ধাপগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করেছে:
    ১. সমস্যা ও ক্ষেত্র নির্বাচন: মাসুদ নারী উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়কে (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয়) তার গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
    ২. নমুনায়ন: এলাকার মোট ৫০০ জন নারীর মধ্য থেকে বৈজ্ঞানিক নিয়মে ২০০ জনকে নমুনা হিসেবে বাছাই করেছে।
    ৩. তথ্য সংগ্রহ কৌশল: উপাত্ত সংগ্রহের জন্য সে একটি সুনির্দিষ্ট গবেষণা কৌশল হিসেবে প্রশ্নপত্র ব্যবহার করেছে।
    ৪. উপাত্ত সারণিবদ্ধকরণ ও বিশ্লেষণ: সংগৃহীত তথ্যগুলোকে সারণিভুক্ত (tabulation) করে সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়েছে এবং বিশ্লেষণ করেছে।
    ৫. ফলাফল ও সুপারিশ: তথ্যের কার্যকারণ বিশ্লেষণ করে সে ফলাফল প্রকাশ করেছে এবং তার ভিত্তিতে কার্যকর সুপারিশ প্রদান করেছে।

    উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মাসুদের গবেষণা কার্যক্রমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধারাবাহিক ধাপগুলো যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন