ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
রনির দেশের দুটি অঞ্চলের মধ্যে সে পূর্বাঞ্চলে বাস করে। দেশটির রাজধানী পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। রনির অঞ্চলের সকল আয় পশ্চিমাঞ্চলে চলে যায়। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সকল বিমা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম অঞ্চলে। ফলে রনির অঞ্চলে কখনও বড় কোনো শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি।
- ক)(1)
কত সালে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রনির দেশের দুই অঞ্চলের বৈষম্য পঠিত বইয়ের কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উক্ত বৈষম্য বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) ছিল ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা।
এ মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে তারা ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তবে এ মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে স্তব্ধ করে দেওয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রনির দেশের দুই অঞ্চলের বৈষম্য পঠিত বইয়ের পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যকে ইঙ্গিত দেয়।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, ব্যাংক, বিমা ও বাণিজ্যিক সদর দপ্তর পশ্চিম পাকিস্তানে স্থাপন করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। শিল্প-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পূর্ব পাকিস্তান চরমভাবে উপেক্ষিত ছিল। উদ্দীপকে রনির অঞ্চলের উপার্জিত অর্থ রাজধানীতে চলে যাওয়া এবং সেখানে বড় শিল্প-কারখানা গড়ে না ওঠার দিকটি পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার প্রতি অর্থনৈতিক শোষণের হুবহু প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, অর্থনৈতিক বৈষম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ ছিল না। এর পেছনে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনাও সমানভাবে দায়ী ছিল।
প্রথমত, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালানো হয়, যা ভাষা আন্দোলনের জন্ম দেয়। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাঙালিদের ন্যায্য ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়; ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়ের পরও সরকারকে অন্যায়ভাবে ভেঙে দেওয়া হয়। তৃতীয়ত, বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।
অতএব, অর্থনৈতিক শোষণের পাশাপাশি ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামগ্রিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও