‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

শামসুল হুদা একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন।

  1. ক)

    কত সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    'বেঙ্গল প্যাক্ট' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো মহান নেতার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করে - বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বেঙ্গল প্যাক্ট' হলো ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কর্তৃক অবিভক্ত বাংলার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্পাদিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। এর মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত ইতিহাস ও পৌরনীতির মহান নেতা মীর নিসার আলী তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।

    তিতুমীর ছিলেন একজন নির্ভীক ব্রিটিশবিরোধী ও অত্যাচারবিরোধী নেতা। তিনি বাংলায় হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের শোষণ-অত্যাচার এবং প্রজাদের ওপর অন্যায্য কর (যেমন দাড়ি রাখার ওপর কর) আরোপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উদ্দীপকে শামসুল হুদা যেমন অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোরদের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং প্রশিক্ষণের জন্য দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন, তেমনি তিতুমীরও স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একটি লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন এবং নারিকেলবাড়িয়ায় বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা দুর্গ নির্মাণ করে সেখানে অনুসারীদের প্রশিক্ষণ দেন। তাই উদ্দীপকের চরিত্রের সাথে শহীদ তিতুমীরের পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব শহীদ তিতুমীরের সংগ্রামের কারণে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তীব্র ও গতিশীল হয়েছিল— উক্তিটি যথাযথ।

    উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিতুমীর অত্যাচারী জমিদার ও ইংরেজ নীলকরদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষক-প্রজাদের সংগঠিত করে এক শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৮৩১ সালে তিনি বারাসাত মহকুমায় ব্রিটিশ কর্তৃত্ব অস্বীকার করে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করেন এবং নারিকেলবাড়িয়ায় তাঁর বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কেবল জমিদারদের নয়, সরাসরি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শাহাদাতবরণ করেন।

    তিতুমীরের এই আত্মত্যাগ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ সাধারণ মানুষের মনে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র দেশপ্রেম ও সাহসের সঞ্চার করে। তাঁর এই গণসংগ্রাম পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে সংঘটিত ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব ও অন্যান্য ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত ও গতিশীল করেছিল। সুতরাং উক্তিটি ঐতিহাসিকভাবে যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন