গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

রিপার জন্য বাবা একটি পালাজো কিনে এনেছে। এটি দেশে রিপার মায়ের মনে হলো কলেজে পড়ার সময় এ রকম একটা পোশাক তাদের সময়ও ছিল। কিন্তু রিপার মা বললেন তিনি সব সময় নিজের পছন্দমতো একই ধরনের পোশাক পরতেন। বাবা বললেন, “পোশাকের ধরন আমাদের সময়ও নানান কারণে পরিবর্তন হতে দেখেছি।”

  1. ক)

    ডিজাইন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পোশাক পেশার পরিচিতি দেয়- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    রিপার মায়ের নিজের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন ধারণাটির প্রতিফলন ঘটেছে? ধারণাটি ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক। ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রিপার বাবার উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো বস্তু বা পোশাক তৈরির পূর্বপরিকল্পনা, কাঠামো এবং শিল্প উপাদানগুলোর সুসমন্বিত রূপই হলো ডিজাইন বা নকশা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পোশাক দেখে একজন ব্যক্তির পেশা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, তাই বলা হয় পোশাক পেশার পরিচিতি দেয়। যেমন—ডাক্তারের সাদা অ্যাপ্রন, নার্সের পোশাক, আইনজীবী বা বিচারপতির কালো কোট ও গাউন, পুলিশ বা সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম ইত্যাদি তাদের কর্মক্ষেত্র ও পরিচয়কে তাৎক্ষণিকভাবে আলাদা করে তুলে ধরে। এটি পেশাগত মর্যাদা ও কার্যকারিতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রিপার মায়ের নিজের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'স্টাইল' (Style) ধারণাটির প্রতিফলন ঘটেছে।

    ফ্যাশন পরিবর্তনশীল হলেও স্টাইল হলো কোনো ব্যক্তির নিজস্ব, স্থায়ী এবং অনন্য পছন্দ বা ধরণ। রিপার মা প্রচলিত ফ্যাশনের জোয়ারে গা না ভাসিয়ে সবসময় নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচির সাথে মানানসই একই ধরনের পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন।

    এই ধারণাটি ব্যক্তিত্ব বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক। ব্যক্তি যখন কোনো অন্ধ অনুকরণ না করে নিজের শারীরিক গঠন, বয়স, গায়ের রঙ এবং রুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নির্বাচন করে, তখন তার মধ্যে নিজস্বতা ও স্বাতন্ত্র্য ফুটে ওঠে। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে এবং সমাজে ব্যক্তির একটি মার্জিত ও সুনির্দিষ্ট আত্মপরিচয় বা ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রিপার বাবার উক্তিটি—“পোশাকের ধরন আমাদের সময়ও নানান কারণে পরিবর্তন হতে দেখেছি”—সম্পূর্ণ যথার্থ। পোশাকের ধরন বা ফ্যাশন মূলত বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।

    প্রথমত, সভ্যতার অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাভাবনা ও রুচির পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাব পোশাকে পড়ে। আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ সহজে ব্যবহারযোগ্য ও আরামদায়ক পোশাক পছন্দ করে, যেমনটি পালাজোর ক্ষেত্রে দেখা যায়।

    দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি ও বস্ত্রশিল্পের উন্নতির ফলে নতুন নতুন সুতা, কাপড় ও ডাইং পদ্ধতির আবিষ্কার হয়েছে, যা পোশাকে বৈচিত্র্য এনেছে।

    তৃতীয়ত, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণমাধ্যমের প্রসারের ফলে বিশ্বায়নের যুগে এক দেশের সংস্কৃতি ও ফ্যাশন সহজেই অন্য দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তন, ঋতু বা জলবায়ু এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার হেরফেরও পোশাকের ধারায় পরিবর্তন আনে।

    অতএব, মানুষের চাহিদা, সময়, প্রযুক্তি এবং সামাজিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় পোশাকের ধরনের যে রূপান্তর ঘটে, বাবার বক্তব্যে সেই বাস্তবিক সত্যটিই ফুটে উঠেছে। তাই তাঁর উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন