ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রফিকুল একজন আম ব্যবসায়ী। বাগান থেকে আম কেনার সময় তিনি কোনো কৃত্রিম স্প্রে ব্যবহার করেন না। তার কিছু আম পচে গিয়ে লাভ কম হয়। এছাড়া আম বিক্রির সময় তিনি আমের জাতের সঠিক তথ্য দেন। অন্যদিকে, তার প্রতিবেশী শামীম প্রতিবছর বৃক্ষমেলা থেকে বিভিন্ন জাতের চারা কেনেন এবং রাস্তার দুই পাশে রোপণ করেছেন। এখন তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে সমাজে পরিচিত।
- ক)(1)
আল ইসলাম (اَلْاِسْلَامُ) অর্থ কী?
- খ)(2)
“উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত রফিকুল কেয়ামতের দিন কার সাথে থাকবে? হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
শামীমের কর্মকাণ্ডের সুদূর প্রসারী প্রভাব হাদীসের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আল ইসলাম (اَلْاِسْلَامُ) অর্থ আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা এবং শান্তির পথে চলা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম”—এর অর্থ হলো দানকারী বা সাহায্যকারীর হাত গ্রহণকারীর হাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ হাদিসের মাধ্যমে মানুষকে পরমুখাপেক্ষী না হয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জন করতে এবং অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করেছেন। উপরের হাত বলতে যিনি দান করেন এবং নিচের হাত বলতে যিনি গ্রহণ বা ভিক্ষা করেন তাঁকে বোঝায়। ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্যের ওপর নির্ভরতাকে নিরুৎসাহিত করে স্বাবলম্বী ও দানশীল হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রফিকুল কেয়ামতের দিন নবী, সত্যবাদী (সিদ্দিকিন) এবং শহীদদের সাথে থাকবেন।
রফিকুল একজন সততা সম্পন্ন ব্যবসায়ী। তিনি আমের ব্যবসায় কৃত্রিম বা ক্ষতিকর স্প্রে ব্যবহার করেন না এবং পণ্যের সঠিক তথ্য গ্রাহককে প্রদান করেন, যদিও এতে তাঁর ব্যক্তিগত লাভের পরিমাণ কমে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক এবং শহীদগণের সঙ্গী হবেন” (তিরমিজি)। রফিকুলের ব্যবসায়িক সততা ও বিশ্বস্ততা হাদিসের সেই আদর্শ ব্যবসায়ীর চরিত্রের সাথে পূর্ণভাবে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় তিনি আখেরাতে এই মহান ব্যক্তিবর্গের সাহচর্য লাভ করবেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শামীমের কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ইসলামের দৃষ্টিতে সদাকায়ে জারিয়া বা অবিচ্ছিন্ন সওয়াবের মাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলিম যদি একটি বৃক্ষ রোপণ করে কিংবা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি বা কোনো প্রাণী খায়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
শামীমের রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর প্রভাব নিম্নরূপ:
১. সদাকায়ে জারিয়া: এই বৃক্ষগুলো যতদিন বেঁচে থাকবে এবং মানুষ ছায়া পাবে বা ফলমূল গ্রহণ করবে, ততদিন শামীম তাঁর মৃত্যুর পরও অবিরাম সওয়াব বা প্রতিদান পেতে থাকবেন।
২. পরিবেশ সংরক্ষণ: বৃক্ষরোপণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, জলবায়ুর পরিবর্তন রোধ করে এবং প্রাণিকুলকে অক্সিজেন প্রদান করে বাঁচিয়ে রাখে।
৩. সামাজিক কল্যাণ: পথচারীরা গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারে এবং এর ফল দ্বারা উপকৃত হয়।অতএব, শামীমের এ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগটি কেবল সামাজিক বা পরিবেশগত দায়িত্বই নয়, বরং হাদিসের আলোকে এটি একটি চলমান পুণ্য বা সদাকায়ে জারিয়ার কাজ যা পরকালেও তাঁর মুক্তির পাথেয় হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও