ভূগোল ১ম পত্র • ভূমিরূপ পরিবর্তন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৪
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ভূ-আলোড়ন কাকে বলে?
- খ)(2)
নদী-শাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' প্রক্রিয়ার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'খ' প্রক্রিয়ার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রভাবে ভূ-ত্বকে যে আকস্মিক বা ধীরগতির আলোড়ন বা সঞ্চালন সৃষ্টি হয়, তাকে ভূ-আলোড়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন রোধ করার জন্য নদী এবং তার তীরবর্তী অঞ্চলে গৃহীত প্রকৌশলগত ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাকে নদী-শাসন বলে।
নদী-শাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো নদীর গতিপথকে সুনির্দিষ্ট রাখা এবং মানববসতি, কৃষি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ভাঙন থেকে রক্ষা করা। এর অংশ হিসেবে নদীর পাড় সংরক্ষণ (বাঁধ নির্মাণ, সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ফেলা), ড্রেজিং বা নদীখনন এবং স্পার বা গ্রোয়েন নির্মাণ করা হয়ে থাকে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' প্রক্রিয়াটি বরফ গলা পানি বা তুষারের মাধ্যমে সংঘটিত যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন (Frost Action বা তুষারের কার্য)-কে নির্দেশ করে।
শীতপ্রধান বা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে দিনে বা উষ্ণ সময়ে বরফ গলে পানি শিলার ফাটলের মধ্যে প্রবেশ করে। রাতে বা অত্যন্ত শীতল আবহাওয়ায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে ওই পানি বরফে রূপান্তরিত হয়। তরল পানি বরফে পরিণত হলে এর আয়তন প্রায় শতকরা ৯ থেকে ১০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। শিলার ফাটলের বদ্ধ স্থানে বরফ সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে ফাটলের দুই পাশের দেয়ালে তীব্র চাপের সৃষ্টি হয়। বারবার বরফ গলা ও বরফে জমার এই পৌনঃপুনিক প্রক্রিয়ার ফলে শিলার ফাটল ক্রমে প্রসারিত ও গভীর হয়। পরিশেষে শিলাটি দুর্বল হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ে। এভাবে বরফ গলা পানির কার্য দ্বারা যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবন ঘটে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'খ' প্রক্রিয়াটি হলো বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ দ্বারা সংঘটিত 'জৈবিক বিচূর্ণীভবন'। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো কেন এই প্রক্রিয়ার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি দায়ী:
উদ্ভিদ ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ বা প্রাণীর মাধ্যমে ভূ-ত্বকের শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া একটি প্রাকৃতিক জৈবিক প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের শিকড় শিলার ফাটলে প্রবেশ করে তা ফাটিয়ে দেয় এবং কেঁচো, ইঁদুর ইত্যাদি প্রাণী গর্ত খুঁড়ে শিলা ও মাটিকে আলগা করে। তবে জৈবিক বিচূর্ণীভবনে মানুষের ভূমিকা সর্বাধিক ও দ্রুততম।
মানুষ তার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত ভূ-পৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করছে। যেমন:
১. খনিজ সম্পদ আহরণ: কয়লা, তেল, গ্যাস ও বিভিন্ন ধাতব খনিজ উত্তোলনের জন্য ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং গভীর খননকার্যের মাধ্যমে বিশাল বিশাল শিলাস্তর চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হয়।
২. অবকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নয়ন: রাস্তাঘাট, রেলপথ, টানেল বা সুড়ঙ্গ, সেতু এবং বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য মানুষ পাহাড় কেটে শিলাস্তর ভেঙে ফেলে।
৩. কৃষিকাজ ও শিল্পায়ন: আধুনিক যন্ত্রপাতির (যেমন- ট্র্যাক্টর, বুলডোজার) সাহায্যে কৃষিজমি প্রস্তুত করা ও শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে ভূমি সমতল করার মাধ্যমে শিলা ও মাটির স্তর ভেঙে আলগা করে দেওয়া হয়।
৪. বনভূমি ধ্বংস: নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে মাটির ওপরের আবরণ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং অতি দ্রুত ক্ষয় ও চূর্ণ-বিচূর্ণ ঘটে।অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের কার্যকারিতা অত্যন্ত ধীর ও সীমিত পরিসরে হয়ে থাকে, কিন্তু মানুষ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে বিশাল এলাকার শিলা ও ভূ-প্রকৃতি ভেঙে রূপান্তর ঘটাতে পারে। অতএব, জৈবিক বিচূর্ণীভবনের ক্ষেত্রে মানুষই সবচেয়ে বেশি দায়ী—উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও