সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পদ্ধতি • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এমন একটি পদ্ধতি রয়েছে যাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। এর একটি অংশ এলাকার অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অপর অংশটি সমাজকর্ম অনুশীলনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য সমষ্টির জনগণের প্রতিনিধিদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমাজকল্যাণ চাহিদা নির্ধারণ, সেগুলো পূরণের উপায় সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালানো।
- ক)(1)
ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান কয়টি?
- খ)(2)
Rapport বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে তার মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত সমাজকর্ম পদ্ধতিটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পার্লম্যানের (Perlman) মতে ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান ৫টি (ব্যক্তি, সমস্যা, স্থান, প্রক্রিয়া এবং পেশাগত সম্পর্ক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Rapport (র্যাপো) বলতে সমাজকর্মী ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে গড়ে ওঠা উদ্দেশ্যমূলক, আন্তরিক, বিশ্বাসযোগ্য ও পেশাগত সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে বোঝায়। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে সাহায্যার্থী নিঃসঙ্কোচে নিজের সমস্যা প্রকাশ করতে পারে এবং কার্যকরভাবে সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম অংশে সমষ্টি সমাজকর্মের যে শাখাটির কথা বলা হয়েছে তা হলো 'সমষ্টি উন্নয়ন' (Community Development)। এটি অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর বা গ্রামীণ এলাকার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে।
সমষ্টি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মূল বিষয়গুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: সমষ্টির অভ্যন্তরীণ যাবতীয় প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ চিহ্নিত করে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
২. জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় ও সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৩. আত্মসহায়তা (Self-help): বাইরের সাহায্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে সমষ্টির মানুষের নিজেদের ক্ষমতায় ও উদ্যোগে স্বাবলম্বী হওয়ার মনোভাব তৈরি করা।
৪. সমন্বিত উন্নয়ন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন করা।
৫. সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার সংযোগ: স্থানীয় জনগণের উদ্যোগের সাথে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার মেলবন্ধন ঘটানো। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে সমাজকর্মের যে পদ্ধতিটির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তা হলো 'সমষ্টি সংগঠন' (Community Organization)। সমষ্টির সমাজকল্যাণ চাহিদা নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্পদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমষ্টি সংগঠনের কার্যকারিতা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. চাহিদা ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন: আধুনিক সমষ্টিতে মানুষের চাহিদা অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। সমষ্টি সংগঠন পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে প্রাপ্ত সম্পদের সুষম ও যৌক্তিক বণ্টন সম্ভব হয়।
২. সমন্বিত উদ্যোগ সৃষ্টি: এটি বিভিন্ন সমাজকল্যাণ সংস্থা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিদের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে এনে যৌথ প্রচেষ্টায় কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব দূর হয় এবং কাজের দ্বৈততা পরিহার করা যায়।
৩. সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: সমষ্টির বহুমুখী সমস্যা দূরীকরণে বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা তৈরি এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তহবিল ও সম্পদ সংগ্রহের কার্যকর কৌশল জোগায়।
৪. নগর সমষ্টির সমস্যা সমাধান: বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও নগর সমষ্টির জটিল সমস্যাগুলো নিরসনে সামাজিক সচেতনতা তৈরি ও সমাজকল্যাণ কর্মসূচি জোরদারে এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর।সুতরাং, সমষ্টির ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সামাজিক সুবিচার ও কল্যাণে সমষ্টি সংগঠন পদ্ধতি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও