যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

কলেজে যেতে যেতে লিপি বিলের শাপলা ফুল দেখে বলল, বাহ! কি চমৎকার। লিপির বান্ধবী শিউলী বলল, ‘কলেজের সামনের বাগানের ফুলগুলিও সুন্দর।' বান্ধবী রোশনী তখন বলল, ‘কোনো ফুলই অসুন্দর নয় ।

  1. ক)

    পদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সকল শব্দকে পদ বলা যায় কি? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে লিপির বক্তব্যে কোন ধরনের শব্দের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    যুক্তিবাক্যের রূপান্তরের নিয়মের আলোকে শিউলী ও রোশনীর বক্তব্যের তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখে, তাকে পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, সকল শব্দকে পদ বলা যায় না।
    যুক্তিশাস্ত্রে শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে— পদযোগ্য শব্দ, সহ-পদযোগ্য শব্দ এবং পদ-অযোগ্য শব্দ। এর মধ্যে কেবল পদযোগ্য শব্দই নিজে স্বাধীনভাবে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হতে পারে। অন্যদিকে, সহ-পদযোগ্য শব্দ (যেমন: এবং, ও, কিন্তু ইত্যাদি) এবং পদ-অযোগ্য শব্দ (যেমন: বাহ্, হায় হায়, ছি ইত্যাদি আবেগসূচক শব্দ) কখনও নিজে স্বাধীনভাবে পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। ফলে সকল পদই শব্দ হলেও সকল শব্দ পদ নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে লিপির বক্তব্যে পদ-অযোগ্য শব্দের (In-categorematic word) প্রকাশ ঘটেছে।

    যেসব শব্দ নিজে কখনও কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না এবং অন্য কোনো শব্দের সাহায্যেও পদের রূপ নিতে পারে না, কেবল মনের আকস্মিক আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করে, সেগুলোকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলে।

    উদ্দীপকে লিপি বিলের শাপলা ফুল দেখে আবেগ প্রকাশ করে বলেছে, "বাহ! কি চমৎকার।" এখানে 'বাহ!' শব্দটি আনন্দ ও বিস্ময়সূচক আবেগ প্রকাশক শব্দ। এই ধরনের আবেগসূচক বা বিস্ময়সূচক শব্দ যুক্তিশাস্ত্রে উদ্দেশ্য বা বিধেয় হওয়ার কোনো যোগ্যতা রাখে না। অতএব, যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী লিপির বক্তব্যে পদ-অযোগ্য শব্দের প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিউলী ও রোশনীর বক্তব্য দুটিকে যুক্তিবাক্যে রূপান্তর করলে তাদের গুণ ও পরিমাণের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হয়।

    শিউলীর বক্তব্য ছিল: "কলেজের সামনের বাগানের ফুলগুলিও সুন্দর।"
    যুক্তিবিদ্যার রূপান্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বাক্যে 'ও' বা নির্দিষ্ট কিছু অংশ বোঝানো হলে বাক্যটি বিশেষ যুক্তিবাক্য হয়। তাই এটিকে আদর্শ যুক্তিবাক্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়:
    "কিছু কলেজের সামনের বাগানের ফুল হয় সুন্দর।"
    এটি একটি বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য (I বাক্য)। কারণ এখানে উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যাপ্যতা নিয়ে কথা বলা হয়েছে এবং গুণ হিসেবে স্বীকৃতিবাচক বা সদর্থক সংযোজক ('হয়') ব্যবহৃত হয়েছে।

    অপরদিকে, রোশনীর বক্তব্য ছিল: "কোনো ফুলই অসুন্দর নয়।"
    যুক্তিবাক্যের রূপান্তরের নিয়মে 'কোনো...নয়' থাকলে তা সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য নির্দেশ করে। এছাড়া বাক্যটিতে উদ্দেশ্য 'ফুল' এবং বিধেয় 'অসুন্দর' উভয় পদই নেতিবাচক আকারে রয়েছে। সরাসরি রূপান্তর করলে বাক্যটি দাঁড়ায়:
    "কোনো ফুল নয় অসুন্দর।" (E বাক্য)
    অথবা যদি বিধেয়কে ইতিবাচক ('সুন্দর') করতে চাওয়া হয়, তবে এর সরল সদর্থক অর্থ দাঁড়ায়:
    "সকল ফুল হয় সুন্দর।" (A বাক্য)

    তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিউলীর বাক্যটি হলো বিশেষ যুক্তিবাক্য (I), যা নির্দিষ্ট কিছু ফুলের সৌন্দর্যের স্বীকৃতি দেয়। পক্ষান্তরে রোশনীর বাক্যটি সামগ্রিক বা সকল ফুলকে নির্দেশ করে সার্বিক যুক্তিবাক্যের (E বা রূপান্তরভেদে A) দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অর্থাৎ, শিউলীর বক্তব্যে পরিমাণগতভাবে বিশেষ রূপ এবং রোশনীর বক্তব্যে সার্বিক রূপ প্রকাশ পেয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন