সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিনের চার ছেলে। সামান্য পৈতৃক জমিতে তিন ছেলেসহ চাষ-বাস করে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অনেক আশা করে ছোট ছেলে কাসেমকে শিক্ষিত করেছেন। তবে কাসেম অনেক চেষ্টা করেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। এতে তার মধ্যে হতাশা কাজ করলেও চেষ্টা চালাচ্ছে লক্ষ্যে পৌছানোর।
- ক)(1)
সামাজিক সমস্যা কী?
- খ)(2)
সামাজিক সমস্যা সমাজ থেকে উদ্ভুত'-বক্তব্যটি দ্বারা কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কাসেমের অবস্থাটি কোন সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত বহন করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত কাসেমের অবস্থার পরিবর্তনে যে সব পদক্ষেপ কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যা হলো এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত অবস্থা, যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং যার যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিকার ও প্রতিরোধ প্রয়োজন হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যা কোনো প্রাকৃতিক কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে না, বরং তা মানবীয় কার্যকলাপ, সামাজিক পরিবর্তন, ত্রুটিপূর্ণ সমাজকাঠামো বা সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা থেকেই সৃষ্টি হয়। মানুষ এবং সমাজের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া ও ব্যবস্থার অসঙ্গতিই এসব সমস্যার জন্ম দেয় বলেই বলা হয় 'সামাজিক সমস্যা সমাজ থেকে উদ্ভূত'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাসেমের অবস্থাটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে 'বেকারত্ব' (Unemployment)-এর ইঙ্গিত বহন করছে।
কর্মক্ষম ব্যক্তি যখন প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও কোনো উপযুক্ত কর্মসংস্থান পায় না, তখন তাকে বেকারত্ব বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক মফিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে কাসেম শিক্ষিত হয়েও অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। কাসেমের কাজ করার যোগ্যতা ও প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে কোনো কাজ পাচ্ছে না। এই অবস্থাটি স্পষ্টভাবে সমাজে বিরাজমান শিক্ষিত বেকারত্বের চিত্রকে তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কাসেমের বেকারত্ব দূরীকরণ ও অবস্থার পরিবর্তনে যেসব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা: প্রচলিত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কাসেমের মতো শিক্ষিত যুবকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, যা তাকে চাকরির বাজারে দক্ষ করে তুলবে।
২. আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি: চাকরির পেছনে না ছুটে মৎস্য চাষ, পশুপালন, উন্নত কৃষি খামার বা কুটির শিল্পের মতো খাতে আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৩. সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ: শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার (NGO) মাধ্যমে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ ও পুঁজির সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৪. ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং ও দক্ষতা উন্নয়ন: বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরামর্শ প্রদান করা যাতে হতাশা কাটিয়ে সঠিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করা যায়।পরিশেষে, শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করলে কাসেমের অবস্থার দ্রুত ও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও