‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    স্বারাজ দল কী?

    (1)
  2. খ)

    অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) বৃত্তের স্থানের মহান ব্যক্তি মাতৃভাষা রক্ষায় কী ভূমিকা পালন করেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তার অবদান মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯২৩ সালের ১ জানুয়ারি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং পণ্ডিত মতিলাল নেহেরুর নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গঠিত রাজনৈতিক দলটি হলো স্বরাজ দল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকারের অন্যায় ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডের (যেমন- রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড) বিরুদ্ধে সূচিত অহিংস গণআন্দোলনই হলো অসহযোগ আন্দোলন। এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের সাথে সকল ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করা, যেমন- সরকারি উপাধি ও পদ বর্জন, সরকারি স্কুল-কলেজ ও আদালত বর্জন এবং ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানের মহান ব্যক্তি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি মাতৃভাষা বাংলা রক্ষায় এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

    ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হলে শেখ মুজিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের যৌথ সভায় গঠিত 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনের সময় তিনি গ্রেফতার হন।

    পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সময় কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনকারীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বপ্রস্তুতি ও একুশের কর্মসূচি সফল করার পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রস্তাবকে এগিয়ে নিতে জেলে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। এভাবে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি অনন্য অবদান রাখেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে নির্দেশিত মহান ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল অবিসংবাদিত ও মুখ্য।

    প্রথমত, বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের রূপরেখা হিসেবে ১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' ঘোষণা করেন, যাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। এই ছয় দফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৬৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' দায়ের করে। কিন্তু তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকার তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় এবং জনগণ তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তাঁর বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—সমগ্র বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালালে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেও তাঁর নামেই গঠিত মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। সুতরাং, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয় ও কেন্দ্রীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন