ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সমভূমি কাকে বলে ?
- খ)(2)
লালমাই পাহাড়ের মৃত্তিকা লালচে বর্ণের— ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'খ' অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' অঞ্চল ‘খ' অঞ্চল অপেক্ষা কৃষিকাজের জন্য অধিক উপযোগী — বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমুদ্রপৃষ্ঠের একই সমতলে বা সামান্য উঁচুতে অবস্থিত বিস্তীর্ণ সমতল বা মৃদু ঢালু ভূভাগকে সমভূমি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুমিল্লা শহরের নিকটবর্তী লালমাই পাহাড়ের মৃত্তিকা লালচে বর্ণের হওয়ার মূল কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে লোহার অক্সাইড (লৌহ উপাদান) বিদ্যমান। প্লাইস্টোসিন যুগে গঠিত এই ভূমিরূপের মাটি নুড়ি, বালু ও কঙ্কর মিশ্রিত এবং দীর্ঘকাল ধরে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাবে শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে লোহার অক্সাইডের আধিক্য দেখা দেয়। এই রাসায়নিক উপাদানের কারণে এখানকার মাটি দেখতে লালচে বা কালচে লাল বর্ণের হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানচিত্রে চিহ্নিত 'খ' অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল)।
নিম্নে এ অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. গঠনকাল ও প্রকৃতি: এ অঞ্চলটি টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত গঠিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হয়েছিল। এখানকার পাহাড়গুলো মূলত বেলেপাথর, শেল এবং কাদা পাথর দ্বারা গঠিত।
২. উচ্চতা ও ভূপ্রকৃতি: এখানকার পাহাড়গুলো উত্তর ও উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে বিস্তৃত। এদের গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলো (যেমন— তাজিংডং বা বিজয়, কেওক্রাডং ইত্যাদি) এ অঞ্চলেই অবস্থিত।
৩. নদী ও উপত্যকা: এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ইত্যাদি খরস্রোতা পাহাড়ি নদী প্রবাহিত হয়েছে এবং এদের মাঝে অনেক গভীর গিরিখাত ও উপত্যকা রয়েছে।
৪. উদ্ভিজ্জ ও বনভূমি: অঞ্চলটিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী উদ্ভিদের সমৃদ্ধ ক্রান্তীয় অরণ্য গড়ে উঠেছে, যা বনজ সম্পদে সমৃদ্ধ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' অঞ্চলটি হলো সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি (বিশেষ করে গাঙ্গেয় বা বদ্বীপ সমভূমি অঞ্চল) এবং 'খ' অঞ্চলটি হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি অঞ্চল (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম)।
'ক' অঞ্চল 'খ' অঞ্চল অপেক্ষা কৃষিকাজের জন্য অধিক উপযোগী। এর কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভূপ্রকৃতি ও মাটির গঠন: 'ক' অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি মূলত সমতল ও মৃদু ঢালু। বর্ষাকালে নদীগুলো পলি বহন করে আনে, ফলে এখানকার মাটি উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ। পলিমাটি ধান, গম, পাট, ডাল ও বিভিন্ন শাকসবজি চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। পক্ষান্তরে, 'খ' অঞ্চলের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বন্ধুর ও খাড়া। সেখানকার মাটি কঙ্করময়, বালুকাময় এবং অম্লীয় প্রকৃতির, যার স্বাভাবিক উর্বরতা প্লাবন সমভূমির চেয়ে অনেক কম।
২. সেচসুবিধা ও জল নিষ্কাশন: সমতল ভূমি হওয়ায় 'ক' অঞ্চলে নদী, খাল-বিল ও ভূগর্ভস্থ পানি সহজে উত্তোলন করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। অন্যদিকে 'খ' অঞ্চলে পাহাড়ি ঢাল ও খরস্রোতা নদীর কারণে ভূগর্ভস্থ পানির সহজলভ্যতা কম এবং ব্যাপকভিত্তিক কৃত্রিম সেচ প্রদান বেশ ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
৩. আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার: সমতল ভূমিতে লাঙল, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টারসহ যেকোনো আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী। বিপরীতভাবে, পাহাড়ি অঞ্চলে বন্ধুর প্রকৃতির কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত এবং সেখানে মূলত সনাতন বা কায়িক শ্রমনির্ভর 'জুম চাষ' ও পাহাড়ের ধাপে সীমিত আকারে চাষাবাদ করা হয়।
৪. যোগাযোগ ও বাজারজাতকরণ: 'ক' অঞ্চলে উন্নত যাতায়াত ও বিপণন ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো যায়, যা 'খ' অঞ্চলে পাহাড়ি দূর্যোগ ও দুর্গমতার কারণে সম্ভব হয় না।
অতএব, মাটির উর্বরতা, সমতল ভূপ্রকৃতি এবং সেচ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার দিক বিবেচনায় উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' অঞ্চলটি 'খ' অঞ্চলের তুলনায় কৃষিকাজের জন্য বহুগুণে উপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও