‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশ্বব্যাংক, জাইকা প্রভৃতি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সংস্থা। এদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে ঋণ সহায়তা দেওয়া। এই দেশগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ার পাশাপাশি কাজের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোও বিশ্বব্যাপী পণ্য রপ্তানীর সুযোগ পায়।

  1. ক)

    NATO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চুক্তি সংস্থা (SEATO) গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সংস্থাসমূত্রে সাথে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময় গড়ে ওঠা কোন অর্থনৈতিক সংস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সংস্থা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে কীভাবে ভূমিকা রেখেছে? আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    NATO (উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা) ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থা (SEATO) ১৯৫৪ সালে মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি যৌথ আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা জোট হিসেবে গঠিত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বব্যাংক ও জাইকার মতো অর্থনৈতিক সহায়তাকারী সংস্থাসমূহের সাথে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময় গড়ে ওঠা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'মার্শাল প্ল্যান' (বা ইউরোপীয় পুনর্গঠন কর্মসূচি)-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সেখানে সোভিয়েত কমিউনিজমের বিস্তার রোধের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল এই ঐতিহাসিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। উদ্দীপকে যেমন অনুন্নত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বা উন্নয়নশীল দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে ঋণ সহায়তার কথা বলা হয়েছে, ঠিক তেমনি মার্শাল প্ল্যানের আওতায় পশ্চিম ইউরোপের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে ব্যাপক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মার্শাল প্ল্যান স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে পাশ্চাত্য বা পশ্চিম ইউরোপীয় অর্থনীতির বিকাশে এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছিল।

    প্রথমত, এই পরিকল্পনার আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপের ১৬টি দেশকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ও পণ্য সহায়তা দেয়। এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর শিল্প-কারখানা পুনরুজ্জীবিত হয় এবং কৃষি ও পরিবহন অবকাঠামোর দ্রুত আধুনিকায়ন ঘটে।

    দ্বিতীয়ত, ইউরোপের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, যা কমিউনিজমের ঝুঁকি থেকে অঞ্চলটিকে রক্ষা করে।

    তৃতীয়ত, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করে। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে উন্নত দেশগুলো পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়, তেমনি মার্শাল প্ল্যানের সহায়তার বড় অংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও প্রযুক্তি ক্রয়ে ব্যবহৃত হয়েছিল। এর ফলে পাশ্চাত্য পুঁজিবাদী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে গঠিত 'ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়' (EEC) ও বর্তমান ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিত্তি রচিত হয়।

    সুতরাং, পাশ্চাত্য অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখ থেকে রক্ষা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে উক্ত সংস্থা তথা মার্শাল প্ল্যানের অবদান ছিল অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন