ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাসির উদ্দিন মোল্লা অগাধ ধন-সম্পত্তির মালিক ছিলেন। কিন্তু তিনি অপুত্রক হওয়ায় তার সমস্ত সম্পত্তি মৃত্যুর পূর্বে মেয়ের জামাই হারুন মিয়াকে উইল করে দিয়ে যান। হারুন মিয়া চরাঞ্চলের একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ হলেও তার এলাকায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তাই হারুন মিয়া প্রাপ্ত অর্থ ব্যয়ে শ্বশুরের নামে একটি কলেজ, মায়ের নামে একটি মাদ্রাসা এবং নিজের নামে একটি স্কুল অত্র-এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি গরিব ও মেধাবী ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করেন।
- ক)(1)
হাজি মুহম্মদ মোহসিনের পূর্বপুরুষেরা কোথাকার অধিবাসী ছিলেন?
- খ)(2)
ঔপনিবেশিক যুগে বাংলার মুসলিম সমাজে শিক্ষা সংস্কার প্রয়োজন হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যাসহ লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বাসির উদ্দিন মোল্লার সাথে হাজি মুহম্মদ মোহসিনের কোন আত্মীয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে হারুন মিয়ার কর্মকাণ্ডের আলোকে হাজি মুহম্মদ মোহসিনের কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দানবীর হাজি মুহম্মদ মোহসিনের পূর্বপুরুষেরা ইরানের এসফাহান (বা পারস্য)-এর অধিবাসী ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ফলে বাংলার মুসলমানরা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম দুরবস্থার শিকার হয়। ইংরেজরা ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা চালু করলে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিমরা সরকারি চাকরি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য শিক্ষার অভাবে মুসলমান সমাজ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অনগ্রসর হয়ে পড়েছিল। এ দুরবস্থা থেকে মুসলমানদের মুক্ত করে তাদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে ঔপনিবেশিক যুগে মুসলিম সমাজে শিক্ষা সংস্কার প্রয়োজন হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বাসির উদ্দিন মোল্লার সাথে হাজি মুহম্মদ মোহসিনের সৎ বোন মন্নুজানের স্বামী মির্জা সালাহউদ্দিনের (বা পরোক্ষভাবে তাঁর সৎ বোন মন্নুজান খানমের) সাদৃশ্য রয়েছে। তবে মোহসিন যে সরাসরি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন তা মূলত তাঁর নিঃসন্তান সৎ বোন মন্নুজান খানমের উইলসূত্রে।
হাজি মুহম্মদ মোহসিনের বৈমাত্রেয় বোন মন্নুজান খানম ছিলেন হুগলির প্রখ্যাত জমিদার মির্জা সালাহউদ্দিনের স্ত্রী। মির্জা সালাহউদ্দিন অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে মন্নুজান বিপুল সম্পত্তির অধিকারিণী হন। পরবর্তীকালে ১৮০৩ সালে মন্নুজানেরও কোনো সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর সমস্ত অগাধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি একমাত্র ভাই হাজি মুহম্মদ মোহসিনকে উইল করে দিয়ে যান।
উদ্দীপকের বাসির উদ্দিন মোল্লাও অপুত্রক অবস্থায় তাঁর সমস্ত সম্পত্তি জামাতা হারুন মিয়াকে উইল করে দেন। ঠিক একইভাবে মন্নুজান খানম নিঃসন্তান অবস্থায় তাঁর বিপুল জমিদারির সমস্ত সম্পত্তি মুহম্মদ মোহসিনকে উইল করে দিয়ে যান। অতএব, উত্তরাধিকার সূত্রে নিঃস্বার্থভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের দিক থেকে বাসির উদ্দিন মোল্লার সাথে মন্নুজান খানমের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হারুন মিয়া যেভাবে প্রাপ্ত সম্পদ শিক্ষা বিস্তার ও গরিব-মেধাবীদের কল্যাণে ব্যয় করেছেন, তা হাজি মুহম্মদ মোহসিনের মহৎ কর্মকাণ্ড ও অবিস্মরণীয় কীর্তিকেই তুলে ধরে।
হাজি মুহম্মদ মোহসিন তাঁর বৈমাত্রেয় বোন মন্নুজানের কাছ থেকে বিশাল ভূসম্পত্তি লাভ করার পর ভোগবিলাসে না জড়িয়ে ১৮০৬ সালে এক ঐতিহাসিক ওয়াকফনামা সম্পাদন করেন। এই দলিলের মাধ্যমে তিনি তাঁর অর্জিত বিপুল সম্পত্তির সিংহভাগ মানবকল্যাণ, শিক্ষা বিস্তার, দরিদ্রদের সাহায্য এবং চিকিৎসাসেবার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন, যা 'মোহসিন ফান্ড' বা 'মোহসিন ট্রাস্ট' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের হারুন মিয়া প্রাপ্ত সম্পদ দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। একইভাবে হাজি মুহম্মদ মোহসিনের অর্থে হুগলি মহসিন কলেজ, হুগলি মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহীর বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। তাঁর ট্রাস্ট ফান্ডের বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলায় আধুনিক মুসলিম শিক্ষার সূচনা ঘটে এবং বহু অসচ্ছল মুসলিম শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পান, যার মধ্যে নওয়াব আবদুল লতিফ ও সৈয়দ আমীর আলীর মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সুতরাং বলা যায়, হারুন মিয়ার মতো হাজি মুহম্মদ মোহসিনও নিজের প্রাপ্ত সম্পত্তিকে সমাজহিতৈষণা ও শিক্ষাবিকাশের সর্বোত্তম মাধ্যমে রূপান্তর করে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও