পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৫২ সালে রফিক, সফিক, সালাম বরকতসহ অনেকেই ভাষার জন্য জীবন দান করেছেন। এ চেতনাতেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক দেশের জন্ম হয়।
- ক)(1)
সূর্যসেনের নেতৃত্বে কত সালে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ হয়?
- খ)(2)
দেশপ্রেম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
- ঘ)(4)
জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি জাতি রাষ্ট্র গঠন করেছিল- বিশ্লেষণ করো'।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রামে যুব বিদ্রোহ (অস্ত্রাগার লুণ্ঠন) হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশপ্রেম বলতে নিজের দেশ ও জাতির প্রতি গভীর আবেগ, ভালোবাসা, আনুগত্য এবং দেশের সার্বিক মঙ্গলের জন্য আত্মত্যাগের মনোভাবকে বোঝায়। এটি একজন নাগরিককে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, কল্যাণসাধন এবং জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে উদ্বুদ্ধ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: জাতীয়তা হলো মূলত একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি—ভাষাগত, সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিকভাবে একাত্মতাবোধ; অন্যদিকে জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ও স্বাধীন বা স্বাধীনতা প্রত্যাশী একটি ঐক্যবদ্ধ মানবসমাজ।
২. রাজনৈতিক সংগঠন: জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনগোষ্ঠী যখন সার্বভৌমত্ব অর্জন করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, তখন তা জাতিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ 'জাতীয়তা + রাজনৈতিক সংগঠন বা সার্বভৌমত্ব = জাতি'।
৩. পর্যায়: জাতীয়তা হচ্ছে জাতির প্রাথমিক পর্যায়, আর জাতি হলো জাতীয়তার পূর্ণ ও চূড়ান্ত রূপ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সফল ও জোরালো বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ভাষার অধিকারের জন্য আত্মত্যাগ বাঙালি জাতিকে এক অনন্য ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করেছিল।
পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই জাতীয়তাবাদী চেতনা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে রূপ নেয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে এক হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করে।
এই ধারাবাহিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলেই একটি সুসংহত সাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠী চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক একটি আধুনিক 'জাতি রাষ্ট্র' প্রতিষ্ঠা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও