বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমানমিলিয়া বাউলা গান ঘাটুগান গাইতাম।বর্ষা যখন হইত গাজির গাইন আইতরঙ্গে ঢঙ্গে গাইত আনন্দ পাইতামবাউলা গান ঘাটুগান আনন্দের তুফানগাইয়া সারিগান নাও দৌড়াইতাম।"- এই কবিতাংশে কৃষকদের এত আনন্দেরকারণ তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা।
- ক)(1)
'পখাল' শব্দটির অর্থ কী?
- খ)(2)
শিরে দিয়ে বাঁকা তাজঢেকে রাখে টাক্- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রাম বাংলার মানুষের সাথে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের উল্লিখিত কৃষকের অবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষকদের মত সুখী-সমৃদ্ধ জীবন ফিরে পেতে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের কৃষকদের জীবনমান উত্তরণের উপায় কী বলে লেখক মনে করেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'পখাল' শব্দটির অর্থ পান্তা ভাত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত চরণটির মাধ্যমে আধুনিক সভ্যতার কপটতা এবং প্রকৃত অভাব বা দারিদ্র্যকে বাহ্যিক আড়ম্বর দিয়ে লুকিয়ে রাখার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেখিয়েছেন যে, সমাজে বাহ্যিক চাকচিক্য বাড়লেও অভ্যন্তরীণ রূপটি আসলে দীন ও রিক্ত। মাথার টাক ঢাকতে যেমন বাঁকা তাজ বা টুপি ব্যবহার করে সৌন্দর্য দেখানোর ভান করা হয়, তেমনি সমাজের উচ্চশ্রেণি বা আধুনিক সমাজ কৃষকদের শোষণ করে গড়ে ওঠা কৃত্রিম উন্নতির মুখোশ দিয়ে সাধারণের চরম দারিদ্র্য ও দুর্দশাকে আড়াল করার চেষ্টা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রামবাংলার মানুষের উৎসবমুখর ও স্বনির্ভর জীবনের বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের উল্লিখিত কৃষকদের চরম দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, অতীতে গ্রামবাংলার হিন্দু-মুসলমান কৃষক ও নওজোয়ানরা একসঙ্গে মিলেমিশে বাউলা গান, ঘাটুগান গেয়ে নৌকাবাইচ ও আনন্দে মেতে থাকত। তাদের এই আনন্দের মূলে ছিল অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, গোলাভরা ধান ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গ্রামীণ জীবন।
বিপরীতপক্ষে, 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন কৃষকদের যে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন তা অত্যন্ত করুণ ও হৃদয়বিদারক। প্রবন্ধের কৃষকরা অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরে। পাট ও ধান উৎপাদন করেও তারা পেটভরে পান্তা ভাত বা এক টুকরো নুন পায় না; পরনের কাপড় না থাকায় জীর্ণ চট পরে লজ্জা নিবারণ করে। উদ্দীপকে যেখানে কৃষকদের অতীতের প্রাচুর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশ প্রকাশ পেয়েছে, প্রবন্ধে সেখানে কৃষকদের চরম দারিদ্র্য, অনাহার ও অন্তহীন দুঃখ-কষ্টের চিত্র উন্মোচিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষকদের মতো সুখী-সমৃদ্ধ জীবন ফিরে পেতে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা কৃষকদের জীবনমান উত্তরণে দেশীয় কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন ও স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় নির্দেশ করেছেন।
প্রাবন্ধিক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেখিয়েছেন যে, ব্রিটিশদের আগমনের আগে বাংলার কৃষকরা নিজ জমিতে কার্পাস তুলা চাষ করত, ঘরে ঘরে চরকা কেটে কাপড় তৈরি করত এবং তাদের খাদ্যের অভাব ছিল না। কিন্তু আধুনিকতার নামে বিদেশি বস্ত্র ও পণ্যের অন্ধ অনুকরণের ফলে বাংলার নিজস্ব কুটির শিল্প ও বস্ত্রশিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকরা সম্পূর্ণভাবে পরনির্ভরশীল ও দরিদ্র হয়ে পড়েছে।
লেখিকার মতে, কৃষকদের এই দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে হলে:
১. ঘরে ঘরে আবার চরকার প্রচলন ও কুটির শিল্পের বিস্তার ঘটাতে হবে, যাতে বস্ত্রের জন্য কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় বা পরমুখাপেক্ষী হতে না হয়।
২. কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
৩. অলসতা ও পরনির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিজেরা উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে।অতএব, দেশীয় হস্তশিল্পের পুনরুদ্ধার, কায়িক শ্রমের মর্যাদা এবং স্বাবলম্বী জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই কৃষকরা পুনরায় উদ্দীপকের মতো আনন্দময় ও অভাবমুক্ত জীবন ফিরে পেতে পারে বলে লেখিকা মনে করেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও