পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মতিউর রহমান বাংলাদেশ সরকারের একটি সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে দেশের আইনি জটিলতা নিরসনে অনেক ভূমিকা পালন করেন। তিনি সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার মর্যাদা ভোগ করে রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি অর্জন করে সেই পদে বহাল থাকেন।
- ক)(1)
অধ্যাদেশ জারি করেন কে?
- খ)(2)
সর্বজনীন ভোটের অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব মতিউর রহমানের পদের সাথে বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কোন পদের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর উদ্দীপকে উল্লিখিত পদে থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে? যুক্তিসহ তোমার মতামত মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সর্বজনীন ভোটাধিকার বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে একটি নির্দিষ্ট বয়স (বাংলাদেশে ১৮ বছর) পূর্ণ হওয়া দেশের সকল সুস্থ মস্তিষ্কের নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের সমান অধিকারকে বোঝায়। এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি, যার মাধ্যমে সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব মতিউর রহমানের পদের সাথে বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান 'অ্যাটর্নি জেনারেল' পদের মিল রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দান করেন। তিনি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রেরিত যেকোনো আইনগত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া এবং আইনের জটিলতা নিরসনে আদালতে সরকারের পক্ষ সমর্থন করা তাঁর প্রধান কাজ। তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকেন।
উদ্দীপকের মতিউর রহমান সরকারের সাংবিধানিক পদে থেকে আইনি জটিলতা নিরসনে ভূমিকা রাখেন, সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার মর্যাদা ভোগ করেন এবং রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি অনুযায়ী স্বপদে বহাল থাকেন। এসব বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদের স্বরূপ নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ অর্থাৎ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। নিচে এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো:
অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি অভিভাবক ও আইন উপদেষ্টা। সংবিধান এবং বিদ্যমান আইনের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া, সংবিধানের মৌলিক নীতি সমুন্নত রাখা এবং যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রকে ন্যায়সঙ্গত ও সঠিক আইনি পরামর্শ দেওয়া তাঁর দায়িত্ব।
যদি অ্যাটর্নি জেনারেল নিরপেক্ষ, সৎ এবং পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন, তবে সরকার অসাংবিধানিক বা স্বেচ্ছাচারী আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারে। আদালতে রাষ্ট্রের পক্ষে সঠিক তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করার মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপরাধ নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগকে তিনি সহায়তা করেন। এতে বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হয়।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হলো আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে সংবিধান ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকে। অতএব, অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক দায়িত্বের যথাযথ পালন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও