বাংলা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যে-কোনো একটি বিষয় করো :

8.1.

তোমার ঘুরে আসা কোনো দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের অনুভূতি প্রকাশ করে একটি দিনলিপি লেখো।

8.2.

‘আর্তমানবতার সেবায় তরুণ সমাজ’—তরুণদের সচেতন করার লক্ষ্যে এ বিষয়ে একটি ভাষণ তৈরি করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

৮.১ দিনলিপি লিখন:

১০ মে, ২০২৪
রাত ১০:৩০ মিনিট
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন হয়ে থাকবে। সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পৌঁছে যাই চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। চারদিকে যতদূর চোখ যায়, কেবল সবুজের সমারোহ। পাহাড়ের ঢালু গায়ে ধাপে ধাপে সাজানো চা-বাগানের অপরূপ দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। সকালের সতেজ বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতেই দীর্ঘ ভ্রমণের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল।

দুপুরে আমরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনে যাই। ঘন সবুজ অরণ্যের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি ছিল রোমাঞ্চকর। বনের নিস্তব্ধতা ভেঙে মাঝে মাঝেই নাম না-জানা পাখির ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ ভেসে আসছিল। সেখানে মায়াবী চিত্রল হরিণ এবং উল্লুকের দেখা পাওয়াটা ছিল বাড়তি আনন্দ। প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে উপলব্ধি করলাম, ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবনের বাইরে আমাদের শ্যামল বাংলা কত সুন্দর ও সমৃদ্ধ। বিকেলের পড়ন্ত রোদে নীলকণ্ঠ চা-কেবিনে বসে সাতরঙা চা পান করার অভিজ্ঞতাও ছিল এক অনন্য সংযোজন। আজকের এই চমৎকার দিনটি আমার স্মৃতির পাতায় চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।


অথবা,

৮.২ ভাষণ রচনা:

আর্তমানবতার সেবায় তরুণ সমাজ

প্রিয় উপস্থিতি ও তরুণ বন্ধুরা,
আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।

যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি হলো তার তরুণ সমাজ। যৌবনের মূল ধর্মই হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য যথার্থই বলেছেন—“এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে”। সেই তারুণ্যের অপ্রতিরোধ্য শক্তিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে মানুষের কল্যাণে, আর্তমানবতার সেবায়।

আজ আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষ দুঃখ, দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যখন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা কোনো মহামারি হানা দেয়, তখন সবার আগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু মানবতার সেবা কেবল বিশেষ কোনো দুর্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; এটিকে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা, দুস্থ রোগীদের রক্তদান, শীতার্তদের বস্ত্র বিতরণ কিংবা গৃহহীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা—সব ক্ষেত্রেই তরুণদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

তরুণ বন্ধুরা,
আমরা যদি নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ, আধুনিক জীবনের ভার্চুয়াল জগৎ আর ভোগবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিঃস্বার্থভাবে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াই, তবে সমাজ থেকে দুঃখ-বেদনার অনেকটাই লাঘব হবে। আসুন, আর্তমানবতার সেবায় আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই এবং একটি সুন্দর, সহানুভূতিশীল ও মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলি।

সবাইকে ধন্যবাদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন