ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
রসুলপুর গ্রামের ৩০ জন ব্যক্তি একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছে। মূলত নিজেদের আর্থিক কল্যাণসাধনই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করা এবং স্থানীয়দের নিকট বিক্রয় করে তারা লাভবান হচ্ছে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়ের জন্য স্থানীয়রাও খুশি।
- ক)(1)
BARD এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
সমবায় সমিতির সম-ভোটাধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সমবায় সমিতির উল্লেখ করা হয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
সদস্যদের আর্থিক কল্যাণ ব্যতীত সমবায় সমিতি অপ্রাসঙ্গিক- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BARD এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Academy for Rural Development (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতির সম-ভোটাধিকার বলতে বোঝায় শেয়ার মূলধন যাই হোক না কেন, সমবায়ের প্রত্যেক সদস্যের কেবল একটিমাত্র ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা।
সমবায়ে "এক সদস্য, এক ভোট" নীতি কঠোরভাবে অনুসৃত হয়। সাধারণ যৌথ মূলধনী ব্যবসায় শেয়ারের সংখ্যার ওপর ভোটের সংখ্যা নির্ভর করলেও সমবায় সমিতিতে গণতন্ত্র ও সাম্যের ভিত্তিতে সকল সদস্যের ভোটাধিকার সমান বিবেচনা করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ভোক্তা সমবায় সমিতি'র উল্লেখ করা হয়েছে।
যে সমবায় সমিতিতে ভোক্তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পেয়ে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ ও ভোগের সুবিধা লাভের জন্য একত্রিত হয়, তাকে ভোক্তা সমবায় সমিতি বলে। এর মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি উৎপাদক বা পাইকারের কাছ থেকে কম মূল্যে আসল পণ্য সংগ্রহ করে সদস্যদের মাঝে ও স্থানীয় বাজারে ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রসুলপুর গ্রামের ৩০ জন ব্যক্তি নিজেদের আর্থিক কল্যাণসাধনের লক্ষ্যে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে এবং স্থানীয়দের কাছে তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে নিজেরাও লাভবান হয় এবং ভোক্তারাও সন্তুষ্ট হয়। ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে ভোগের সুবিধা ও মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের মুনাফা হ্রাস করাই ভোক্তা সমবায়ের মূল বৈশিষ্ট্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি একটি ভোক্তা সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদস্যদের আর্থিক কল্যাণ সাধনই সমবায় সমিতির মূল উদ্দেশ্য, তাই আর্থিক কল্যাণ ব্যতীত সমবায় সমিতি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক—বক্তব্যটি যথাযথ।
সমবায় হলো সমাজের সমমনা, অল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি মাধ্যম। এর প্রধান দর্শন হলো 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'। সাধারণ ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন হলেও সমবায়ের প্রধান লক্ষ্য হলো সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শোষণমুক্ত করা ও পারস্পরিক স্বনির্ভরতা অর্জন করা। সদস্যগণের আর্থিক উন্নয়ন না হলে সমবায়ের অস্তিত্বের ভিত্তিই বিনষ্ট হয়।
উদ্দীপকে রসুলপুর গ্রামের ৩০ জন ব্যক্তি সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিল মূলত নিজেদের আর্থিক কল্যাণসাধনের জন্য। তারা ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ ও বিক্রয়ের মাধ্যমে লাভবান হয়। পাশাপাশি সদস্যরা নিয়মিত সঠিক মূল্যে মানসম্মত পণ্য পেয়ে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে। এই আর্থিক কল্যাণ ও সেবা লাভই তাদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্থকতা তৈরি করেছে। যদি প্রতিষ্ঠানটি সদস্যদের আর্থিক উপকারে না আসত, তবে তাদের একত্র হওয়ার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হতো।
অতএব, সদস্যদের অর্থনৈতিক মুক্তি, পারস্পরিক সহায়তা ও আর্থিক কল্যাণই সমবায়ের প্রাণ। তাই আর্থিক কল্যাণ ব্যতিরেকে সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও