রসায়ন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে Kw এর মান বৃদ্ধি পায় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সংশ্লিষ্ট মৌলটি রঙিন যৌগ গঠন করে কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে, ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়মগুলো সঠিকভাবে অনুসৃত হয়েছে কিনা কারণ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যদ্রব্যের তেল বা চর্বিজাতীয় উপাদানের জারণ ক্রিয়াকে প্রতিহত বা বিলম্বিত করে খাদ্যকে পচন ও দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা করে, তাদেরকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পানির স্বতঃবিয়োজন একটি তাপহারী প্রক্রিয়া:
    H2O(l)⇌H+(aq)+OH−(aq);ΔH>0\text{H}_2\text{O}(l) \rightleftharpoons \text{H}^+(aq) + \text{OH}^-(aq); \quad \Delta H > 0
    পানির আয়নিক গুণফল, Kw=[H+][OH−]K_w = [\text{H}^+][\text{OH}^-]।
    লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুসারে, তাপহারী বিক্রিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে সাম্যাবস্থা সামনের দিকে (ডান দিকে) স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে পানির বিয়োজন বৃদ্ধি পায় এবং দ্রবণে H+\text{H}^+ ও OH−\text{OH}^- আয়নের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায়। যেহেতু KwK_w হলো এই দুই আয়নের মোলার ঘনমাত্রার গুণফল, তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানির বিয়োজন বৃদ্ধির কারণে KwK_w এর মানও বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে n=4n=4 দেওয়া আছে। সুতরাং মৌলটির বহিঃস্থ স্তরের ইলেকট্রন বিন্যাস হলো (4−1)d54s2(4-1)d^5 4s^2 বা 3d54s23d^5 4s^2। মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যা ২৫, অর্থাৎ মৌলটি হলো ম্যাঙ্গানিজ (Mn\text{Mn})।

    ম্যাঙ্গানিজ একটি অবস্থান্তর ধাতু। অবস্থান্তর মৌলের স্থিতিশীল আয়নে (যেমন Mn2+\text{Mn}^{2+} বা Mn3+\text{Mn}^{3+}) অপূর্ণ dd-অরবিটাল (d1−d9d^1 - d^9) বিদ্যমান থাকে (যেমন Mn2+\text{Mn}^{2+} এর ক্ষেত্রে 3d53d^5 এবং Mn3+\text{Mn}^{3+} এর ক্ষেত্রে 3d43d^4)।

    লিগ্যান্ডের উপস্থিতিতে পঞ্চ-অবক্ষয়ী (degenerate) dd-অরবিটালগুলো শক্তি পার্থক্যের ভিত্তিতে দুটি সেটে বিভক্ত হয়ে যায় (t2gt_{2g} ও ege_g)। একে ক্রিস্টাল ফিল্ড বিভাজন বলা হয়। দৃশ্যমান আলোর উপস্থিতিতে নিম্ন শক্তিস্তরের dd-অরবিটাল থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ করে উচ্চ শক্তিস্তরের dd-অরবিটালে স্থানান্তরিত হয়। একে d-dd\text{-}d ইলেকট্রনীয় অবস্থান্তর (d-d transition) বলে। শোষিত আলোর সম্পূরক বর্ণটি আমাদের চোখে প্রতিফলিত হয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট মৌলটি (Mn\text{Mn}) রঙিন যৌগ গঠন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে n=4n=4 হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মৌলটির যোজ্যতান্তরের অরবিটালগুলো হলো 3d3d এবং 4s4s। চিত্রে দেখানো হয়েছে:
    ১. 3d3d উপস্তরে ৫টি ইলেকট্রন এবং 4s4s উপস্তরে ২টি ইলেকট্রন রয়েছে। মৌলটির মোট ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s22s22p63s23p63d54s21s^2 2s^2 2p^6 3s^2 3p^6 3d^5 4s^2 (ম্যাঙ্গানিজ, 25Mn_{25}\text{Mn})।

    ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতিসমূহ বিশ্লেষণ:
    ১. আউফবাউ নীতি: ইলেকট্রন প্রথমে নিম্ন শক্তিসম্পন্ন অরবিটালে এবং পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন অরবিটালে প্রবেশ করে। এখানে (n+l)(n+l) এর মান অনুযায়ী 4s4s অরবিটালের শক্তি (4+0=44+0=4), 3d3d অরবিটালের শক্তি (3+2=53+2=5) অপেক্ষা কম হওয়ায় 4s4s আগে পূর্ণ হয়ে 3d3d-তে ইলেকট্রন প্রবেশ করেছে। সুতরাং, আউফবাউ নীতি এখানে সঠিকভাবে অনুসৃত হয়েছে।

    ২. পাউলির বর্জন নীতি: একই পরমাণুর যেকোনো দুটি ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার মান কখনোই এক হতে পারে না। চিত্রে 4s4s অরবিটালের দুটি ইলেকট্রনের স্পিন বিপরীতমুখী (↑↓\uparrow\downarrow) দেখানো হয়েছে। ফলে পাউলির বর্জন নীতিও অনুসৃত হয়েছে।

    ৩. হুন্ডের নীতি: সমশক্তিসম্পন্ন অরবিটালসমূহে ইলেকট্রনগুলো এমনভাবে প্রবেশ করবে যেন তারা সর্বাধিক অযুগ্ম বা বিজোড় অবস্থায় থাকতে পারে এবং এই বিজোড় ইলেকট্রনগুলোর স্পিন একইমুখী বা সমান্তরাল হয়।
    উদ্দীপকের চিত্রে 3d3d উপস্তরের ৫টি সমশক্তিসম্পন্ন অরবিটালে ইলেকট্রনগুলো এককভাবে প্রবেশ করলেও তাদের সবার স্পিন একইমুখী দেখানো হয়নি। চিত্রে তিনটি ইলেকট্রনের স্পিন ঊর্ধ্বমুখী (↑\uparrow) এবং দুটির স্পিন নিম্নমুখী (↓\downarrow) দেখানো হয়েছে। কিন্তু হুন্ডের নিয়ম অনুসারে ৫টি ইলেকট্রনের স্পিনই একইমুখী (সবগুলো ↑\uparrow বা সবগুলো ↓\downarrow) হওয়া আবশ্যক ছিল।

    অতএব, উদ্দীপকের ইলেকট্রন বিন্যাসে আউফবাউ নীতি ও পাউলির বর্জন নীতি অনুসৃত হলেও হুন্ডের নীতি সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন