ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বিমাতার দূরভিসন্ধির ফলে পিতৃরাজ্য হারিয়ে হাদীদ ভাগ্যান্বেষণে বের হন। অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে এক পর্যায়ে একটি প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করে ঐ সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। মাত্র কয়েক বছরের রাজত্বকালে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থায় ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড পরবর্তী শাসকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
- ক)(1)
শেরশাহের বাল্যনাম কী?
- খ)(2)
বৈরাম খানের পতনের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে ষোড়শ শতকে ভারতবর্ষের কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত শাসকের সংস্কার কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেরশাহের বাল্যনাম ছিল 'ফরিদ খাঁ'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট আকবরের অভিভাবক ও সেনাপতি বৈরাম খানের পতনের প্রধান কারণ ছিল তাঁর সীমাহীন ক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ধত আচরণ এবং রাজদরবারের অভ্যন্তরীণ অন্তর্বিরোধ। আকবর প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজের হাতে সরাসরি শাসনক্ষমতা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এছাড়া মহাম অনগা ও অন্যান্য অভিজাতদের প্ররোচনায় এবং বৈরাম খানের একচ্ছত্র প্রভাব ও শিয়া মতাবলম্বীদের অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়ায় রাজদরবারের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়, যার ফলে আকবর বৈরাম খানকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাসকের সাথে ষোড়শ শতকে ভারতবর্ষের সুর বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট শেরশাহের সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরশাহের বাল্যকাল কাটে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। বিমাতার দুর্ব্যবহার ও ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি পিতার জায়গির ত্যাগ করে ভাগ্যান্বেষণে বের হন। পরবর্তীতে তিনি বিহারের শাসক বাহার খান লোহানীর অধীনে কাজ শুরু করেন এবং তাঁর প্রতিভা ও যোগ্যতার পরিচয় দেন। ক্রমান্বয়ে তিনি নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে ও ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে কনৌজের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।
উদ্দীপকের হাদীদও বিমাতার দূরভিসন্ধির শিকার হয়ে পিতৃরাজ্য হারিয়ে ভাগ্য অন্বেষণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের অধিপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিংহাসনে বসেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণরূপে শেরশাহের জীবনের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে নির্দেশিত শাসক সম্রাট শেরশাহ ছিলেন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্কারক শাসক। মাত্র পাঁচ বছরের (১৫৪০–১৫৪৫ খ্রি.) সংক্ষিপ্ত শাসনামলে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে আমূল পরিবর্তন আনেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
রাজস্ব সংস্কারে শেরশাহের অবদান যুগান্তকারী। তিনি জমি জরিপ করিয়ে ফসলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে উৎপন্ন ফসলের এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব নির্ধারণ করেন। কৃষকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য তিনি 'কবুলিয়ত' ও 'পাট্টা' প্রথার প্রবর্তন করেন, যা কৃষকের স্বার্থ সুনিশ্চিত করে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শেরশাহ অসাধারণ উন্নতি সাধন করেন। তিনি সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ মাইল দীর্ঘ বিখ্যাত 'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' (সড়ক-ই-আজম) নির্মাণ করেন। রাস্তার সুরক্ষায় ও পথচারীদের সুবিধার্থে তিনি নির্দিষ্ট দূরত্বে সরাইখানা, ছায়াদার বৃক্ষরোপণ এবং পানির ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ডাক ব্যবস্থার সংস্কারে তিনি ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। মুদ্রা ব্যবস্থায় তিনি 'রুপিয়া' নামক রৌপ্যমুদ্রা প্রবর্তন করেন, যা আধুনিক ভারতীয় মুদ্রার ভিত্তি।
পরিশেষে বলা যায়, শেরশাহের এই জনকল্যাণমূলক ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারসমূহ পরবর্তী সময়ে মুঘল সম্রাট আকবর এবং ব্রিটিশ শাসকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও