সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
সুবর্ণপুর গ্রামের জব্বার সাহেব ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গরিব- দুঃখীদের সাহায্য করেন। সাহায্যদানের ক্ষেত্রে তিনি কোনো বৈষম্য করেন না। তবে তিনি কর্মক্ষমদের সাহায্য না দিয়ে কাজের ব্যবস্থা করেন।
- ক)(1)
যাকাত কী?
- খ)(2)
দানশীলতা ত্রুটিমুক্ত নয়- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জব্বার সাহেবের সেবা কার্যক্রম সমাজকল্যাণের কোন ধারাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জব্বার সাহেবের সমাজসেবায় আধুনিক সমাজকর্মের উদ্দেশ্য গভীরভাবে লক্ষণীয়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যাকাত হলো ইসলাম ধর্মের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য তার উদ্বৃত্ত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (শতকরা ২.৫০ ভাগ বা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) নির্দিষ্ট আটটি খাতের অভাবী ব্যক্তিদের মাঝে বণ্টন করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দানশীলতা ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণের অন্যতম একটি মাধ্যম হলেও তা ত্রুটিমুক্ত নয়; কারণ এতে সাহায্যপ্রার্থীর সমস্যাকে বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয় না। সাময়িক দান মানুষের তাৎক্ষণিক অভাব হয়তো মেটায়, কিন্তু গ্রহীতাকে প্রায়শই পরনির্ভরশীল করে তোলে এবং তার কর্মস্পৃহা ও আত্মমর্যাদাবোধ বিনষ্ট করে সমস্যাকে স্থায়ী রূপ দিতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জব্বার সাহেবের সেবা কার্যক্রম সমাজকল্যাণের 'ঐতিহ্যগত ধারা'কে নির্দেশ করে।
প্রাচীনকাল থেকেই ধর্ম ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আর্তমানবতার সেবায় দানশীলতা, যাকাত, ওয়াকফ ইত্যাদি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। এগুলো ঐতিহ্যগত বা সনাতন সমাজকল্যাণের মূল ভিত্তি, যেখানে মানুষ ধর্মীয় পুণ্য ও পরোপকারের তাগিদে অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুবর্ণপুর গ্রামের জব্বার সাহেব ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে গরিব-দুঃখীদের কোনো বৈষম্য ছাড়াই সাহায্য করেন। ধর্মীয় চেতনা থেকে উৎসারিত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে দান করার এই প্রক্রিয়াটি সমাজকল্যাণের ঐতিহ্যগত বা সনাতন ধারার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জব্বার সাহেবের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে সনাতন পদ্ধতির ভিত্তি থাকলেও তাতে আধুনিক সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের গভীর প্রতিফলন ঘটেছে—বক্তব্যটি যথার্থ।
আধুনিক সমাজকর্মের মূল দর্শন হলো 'সাহায্যার্থীকে এমনভাবে সাহায্য করা যাতে সে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে পারে' (Helping people to help themselves)। অর্থাৎ সাময়িক পরনির্ভরশীল ত্রাণ না দিয়ে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই আধুনিক সমাজকর্মের উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জব্বার সাহেব কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কেবল অনুদান দেন না, বরং তাদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করেন। অনুদানের মাধ্যমে সাময়িক সাহায্য পেলে কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে অলসতা ও পরমুখাপেক্ষিতা জন্ম নেয়। জব্বার সাহেব তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম করেছেন, যা আধুনিক সমাজকর্মের পুনর্বাসন, স্বাবলম্বন ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ একাত্ম। সুতরাং, তাঁর কার্যক্রমে আধুনিক সমাজকর্মের দর্শন অত্যন্ত গভীরভাবে লক্ষণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও