জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নন-অ্যালিলিক জিনের আন্তঃক্রিয়ায় মেন্ডেলের ২য় সূত্রের অনুপাতের ব্যতিক্রম ঘটে, যেমন ১৩: ৩।
- ক)(1)
প্রকট বৈশিষ্ট্য কী?
- খ)(2)
টেস্ট ক্রস ও ব্যাক ক্রসের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুপাতটির আলোকে মেন্ডেলের সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুপাতটি কেন এবং কীভাবে সংঘটিত হয়? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হোমোজাইগাস বা হেটারোজাইগাস উভয় অবস্থাতেই যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় এবং অন্য বৈশিষ্ট্যের প্রকাশে বাধা দেয়, তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টেস্ট ক্রস ও ব্যাক ক্রসের দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য: F₁ বা F₂ জনুর কোনো জীবের সাথে তার হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন জনকের ক্রসকে টেস্ট ক্রস বলে। অপরদিকে, F₁ জনুর জীবের সাথে তার যে কোনো জনকের (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) ক্রসকে ব্যাক ক্রস বলে।
২. সম্পর্ক ও উদ্দেশ্য: সকল টেস্ট ক্রসই ব্যাক ক্রস, কিন্তু সকল ব্যাক ক্রস টেস্ট ক্রস নয়। টেস্ট ক্রসের উদ্দেশ্য হলো অজানা জেনোটাইপ শনাক্ত করা, আর ব্যাক ক্রসের উদ্দেশ্য কাঙ্ক্ষিত জনকের বৈশিষ্ট্য সন্তানে বৃদ্ধি করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৩:৩ অনুপাতটি হলো মেন্ডেলের ২য় সূত্রের (স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র) ব্যতিক্রম।
মেন্ডেলের ২য় সূত্র (স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র):
"দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে (F₁) কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশিত হয়, কিন্তু জননকোষ (গ্যামেট) সৃষ্টির সময় বৈশিষ্ট্যগুলোর জোড় ভেঙে যায় এবং প্রতিটি বৈশিষ্ট্য স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করে।"মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের স্বাভাবিক ফিনোটাইপিক অনুপাত হলো ৯:৩:৩:১। কিন্তু নন-অ্যালিলিক জিনের আন্তঃক্রিয়ায় (যেমন- প্রকট এপিস্ট্যাসিস বা ইনহিবিটর জিনের উপস্থিতি) বৈশিষ্ট্যগুলোর স্বাভাবিক প্রকাশ ব্যাহত হয় এবং দ্বিতীয় অপত্য বংশে (F₂) মেন্ডেলীয় অনুপাত ৯:৩:৩:১ পরিবর্তিত হয়ে ১৩:৩ অনুপাতে রূপান্তরিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৩:৩ অনুপাতটি প্রকট এপিস্ট্যাসিস বা ইনহিবিটরি জিনের (Inhibitory gene) ক্রিয়ার ফলে সংঘটিত হয়।
সংঘটিত হওয়ার কারণ:
যখন একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয় এবং নিজে কোনো স্বতন্ত্র ফিনোটাইপ প্রকাশ করে না, তখন তাকে ইনহিবিটরি জিন বা দমনকারী জিন বলে। এ ধরনের পারস্পরিক ক্রিয়ার কারণে F₂ জনুতে মেন্ডেলের ৯:৩:৩:১ অনুপাতের পরিবর্তে ১৩:৩ অনুপাত সৃষ্টি হয়। যেমন—মুরগির পালকের রঙের ক্ষেত্রে এটি দেখা যায়।ক্রিয়াটির জিনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
ধরা যাক,
রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন = C
সাদা পালকের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = c
রঙ প্রকাশে বাধা দানকারী ইনহিবিটরি প্রকট জিন = I
ইনহিবিটরের অনুপস্থিতি সৃষ্টিকারী প্রচ্ছন্ন জিন = iঅতএব, জিনোটাইপে প্রকট 'I' উপস্থিত থাকলে 'C' জিন কোনো রং প্রকাশ করতে পারে না, ফলে পালক সাদা হয়। কেবল 'C-ii' জিনোটাইপযুক্ত মুরগির পালক রঙিন হবে।
ক্রস:
সাদা লেগহর্ন (CCII) × সাদা ওয়াইনডট (ccii)
গ্যামেট: CI এবং ci
F₁ জনু: CcIi (সব মুরগির পালক সাদা, কারণ I জিন C জিনের প্রকাশকে বাধা দেয়)F₁ জনুর নিজেদের মধ্যে ক্রসের ফলে F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত:
১. C_I_ (৯টি) = সাদা (I জিনের উপস্থিতির কারণে C রঙ প্রকাশ করতে পারে না)
২. C_ii (৩টি) = রঙিন (I জিন নেই, তাই C রঙের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়)
৩. ccI_ (৩টি) = সাদা (বর্ণ সৃষ্টিকারী C জিন অনুপস্থিত এবং I বিদ্যমান)
৪. ccii (১টি) = সাদা (রঙিন বৈশিষ্ট্যের জিন অনুপস্থিত)মোট সাদা পালক = ৯ + ৩ + ১ = ১৩
মোট রঙিন পালক = ৩
সুতরাং, F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়ায় ১৩ : ৩।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও