পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে 'অ' অঞ্চলের জনগণের মধ্যে এরূপ আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, এবার তাদের আর্থ- সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু অচিরেই আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ও রাজনৈতিক বঞ্চনার কারণে তাদের দেখা স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্দোলন- সংগ্রামের একপর্যায়ে তাদের মুক্তির দিশারি একজন নেতা অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধিকারের কথা চিন্তা করে কয়েকটি দফা সংবলিত একটি অনন্য কর্মসূচি ঘোষণা করেন ।
- ক)(1)
১৯৫৮ সালে কে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন?
- খ)(2)
‘তমদ্দুন মজলিস' কেন গঠন করা হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন কর্মসূচির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত কর্মসূচি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে কী ভূমিকা রেখেছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘তমদ্দুন মজলিস’ গঠিত হয়েছিল। মূলত বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও স্বাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই সংগঠনটি গঠন করা হয়েছিল, যা ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা কর্মসূচি’র (১৯৬৬) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়। উদ্দীপকের 'অ' অঞ্চলের মতো বাঙালি জাতির রাজনৈতিক স্বাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এতে ফেডারেল পদ্ধতির সরকার, দুটি পৃথক ও সহজ রূপান্তরযোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা, কর ধার্যের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্তকরণ এবং নিজস্ব মিলিশিয়া বা আধাসামরিক বাহিনী গঠনের বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা'।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ছয় দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করেছিল।
ছয় দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের চিত্র সুস্পষ্টভাবে জনগণের সামনে উন্মোচন করেন। এর ফলে বাঙালি জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার ব্যাপক স্ফুরণ ঘটে। আইয়ুব খানের সামরিক সরকার ছয় দফাকে দমনের উদ্দেশ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়ার চক্রান্ত করে, যা তীব্র গণআন্দোলনের জন্ম দেয় এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
ছয় দফার প্রতি গণসমর্থনের কারণেই ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে ঐতিহাসিক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭০-এর নির্বাচনী রায় যখন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ছয় দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবি রূপ নেয় এক দফার স্বাধীনতার দাবিতে। পরিণামে শুরু হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালি অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। অতএব, ছয় দফা কর্মসূচিই ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও