জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ফটোঅ্যাক্টিভেশন কাকে বলে?
- খ)(2)
শ্বসনের কোন ধাপে অক্সিজেন প্রয়োজন এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চক্রটি যে উদ্ভিদে সংঘটিত হয় তার বৈশিষ্ট্য লেখ।
- ঘ)(4)
জীবজগতে উদ্দীপকের প্রক্রিয়ার গুরুত্ব লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সূর্যালোকের ফোটন কণা শোষণ করে ক্লোরোফিল অণুর উদ্দীপিত বা সক্রিয় হওয়ার প্রক্রিয়াকে ফটোঅ্যাক্টিভেশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সবাত শ্বসনের চতুর্থ ধাপ অর্থাৎ ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমে (ETS) সরাসরি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।
কারণ, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে বিভিন্ন বাহকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসা নিম্ন-শক্তির ইলেকট্রন এবং ম্যাট্রিক্সের প্রোটনগুলোকে গ্রহণ করার জন্য অক্সিজেন সর্বশেষ ইলেকট্রন গ্রহীতা হিসেবে কাজ করে। অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ইলেকট্রন ও প্রোটন যুক্ত হয়ে পানি () উৎপন্ন হয়। অক্সিজেন না থাকলে ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র বন্ধ হয়ে যেত এবং ATP সংশ্লেষণ ব্যাহত হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে মেসোফিল কোষ ও বান্ডল সিথ কোষের সমন্বয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র বা চক্র নির্দেশ করা হয়েছে। এই চক্রটি উদ্ভিদে সংঘটিত হয় (যেমন- আখ, ভুট্টা ইত্যাদি)।
উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি: এদের পাতায় ভাস্কুলার বান্ডলকে ঘিরে সুস্পষ্ট বান্ডল সিথ কোষ এবং বাইরে মেসোফিল কোষের স্তর বিন্যস্ত থাকে, যাকে ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বলে।
২. দুই ধরনের ক্লোরোপ্লাস্ট: মেসোফিল কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সুস্পষ্ট গ্রানা থাকে, কিন্তু বান্ডল সিথ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টগুলো সাধারণত বড় এবং গ্রানাবিহীন বা কম উন্নত।
৩. প্রথম স্থায়ী পদার্থ: কার্বন বিজারণের প্রথম স্থায়ী যৌগ হলো ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA)।
৪. প্রাথমিক গ্রহীতা: এদের প্রাথমিক গ্রহীতা হলো ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEPA)।
৫. উচ্চ অভিযোজন ক্ষমতা: এরা উচ্চ তাপমাত্রা (৩০°-৪৫° সে.), তীব্র সূর্যালোক এবং কম আর্দ্রতায়ও কার্যকরভাবে সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করতে পারে।
৬. ফটোরেস্পিরেশন অনুপস্থিত: এদের ক্ষেত্রে ফটোরেস্পিরেশন বা আলোক-শ্বসন নেই বললেই চলে, ফলে উৎপাদনশীলতা উদ্ভিদের তুলনায় অনেক বেশি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত সার্বিক প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ (সুনির্দিষ্টভাবে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া)। জীবজগতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম:
১. খাদ্য উৎপাদন ও শক্তি সরবরাহ: সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই সৌরশক্তি রাসায়নিক স্থিতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে শর্করার মধ্যে সঞ্চিত হয়। উদ্ভিদজগৎসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমগ্র প্রাণিজগৎ খাদ্যের জন্য এই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
২. বায়ুমণ্ডলে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা: জীবদেহের শ্বসন ও বিভিন্ন দহনের ফলে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড () উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে গ্রহণ করে এবং পরিবেশে প্রাণধারণের অপরিহার্য অক্সিজেন () নির্গমন করে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে ও এর অনুপাত ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
৩. উদ্ভিদের দ্রুত বৃদ্ধি ও অধিক উৎপাদন: উদ্দীপকে প্রদর্শিত চক্রের মাধ্যমে উদ্ভিদ স্বল্প পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করেও অধিক শর্করা তৈরি করতে পারে। এতে আলোক-শ্বসনজনিত অপচয় না হওয়ায় আখ, ভুট্টা ইত্যাদি ফসলের ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়।
৪. মানব সভ্যতার ভিত্তি: মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, কাঠ, জ্বালানি এবং বহু শিল্পের কাঁচামাল সালোকসংশ্লেষণের সরাসরি ফসল। এছাড়া কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি মূলত অতীতকালের সালোকসংশ্লেষণজাত শক্তিরই পরিবর্তিত রূপ।
৫. পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ: সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে গেলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে এবং অক্সিজেনের অভাবে সমস্ত অবাত ও সবাত জীবের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে।সুতরাং, জীবজগতের টিকে থাকা এবং শক্তির অবিরাম প্রবাহ রক্ষায় উদ্দীপকের প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও