সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
এলাকাটির অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দারিদ্র্য আর নিরক্ষরতা তাদের নিত্যসঙ্গী। অঞ্চলটিতে জনবসতি তেমন না থাকলেও সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে তারা একে অপরকে দাওয়াত দেয়। এখনও নারী শিক্ষার প্রতি তারা যেমন উদাসীন তেমনি বাল্যবিবাহ বিষয়ে অসচেতন। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অঞ্চলটিতে এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করছে।
- ক)(1)
এমিল ডুর্খেইম প্রদত্ত সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞাটি লেখো।
- খ)(2)
দলিল-দস্তাবেজনির্ভর গবেষণা পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বর্ণনায় সমাজবিজ্ঞানের কোন পরিধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞান কতটুকু ফলপ্রসূ হবে বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের মতে, "সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান" (Sociology is the science of social institutions)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দলিল-দস্তাবেজনির্ভর গবেষণা পদ্ধতি বা ঐতিহাসিক পদ্ধতি বলতে অতীত বা বর্তমানের লিখিত দলিল, সরকারি-বেসরকারি নথি, আত্মজীবনী, চিঠিপত্র, ঐতিহাসিক চুক্তি ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা পরিচালনা করাকে বোঝায়। এ পদ্ধতিতে গবেষক সরাসরি মাঠপর্যায়ে উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি অতীতে সংরক্ষিত নির্ভরযোগ্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে সামাজিক ঘটনা বা পরিবর্তনের কার্যকারণ ব্যাখ্যা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণনায় সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা 'পল্লী সমাজবিজ্ঞান' (Rural Sociology)-এর পরিধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পল্লী সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের সেই বিশেষ শাখা, যা গ্রামীণ সমাজকাঠামো, গ্রামীণ মানুষের কৃষিনির্ভর জীবনযাত্রা, গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ সামাজিক সমস্যা ও এর সমাধান নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা করে।
উদ্দীপকে এমন একটি অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। সেখানে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক, মেয়েদের শিক্ষার প্রতি উদাসীনতা এবং বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা বিদ্যমান। গ্রামীণ পরিবেশ, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং এসব চিরাচরিত গ্রামীণ সমস্যাাবলি সবই পল্লী সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক আলোচ্য বিষয় বা পরিধির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, উদ্দীপকে পল্লী সমাজবিজ্ঞানের পরিধিকে স্পষ্ট নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণিত পরিস্থিতিতে সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞান অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে আমি মনে করি।
যেকোনো সমাজের সমস্যাগুলোর সঠিক উৎস, কারণ ও গতিপ্রকৃতি বৈজ্ঞানিক উপায়ে অনুধাবন করতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। এটি শুধু সমস্যা চিহ্নিতই করে না, বরং কার্যকর সমাধানের পথও নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের এলাকায় দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অনুন্নত যোগাযোগ, নারীশিক্ষায় অনীহা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ নিম্নলিখিত উপায়ে ফলপ্রসূ হতে পারে:
১. সমস্যার গভীর অনুসন্ধান: সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে নিরক্ষরতা ও বাল্যবিবাহের মূল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণগুলো উদঘাটন করতে সাহায্য করবে।
২. সচেতনতা সৃষ্টি: গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মনোভাব পরিবর্তন এবং নারীশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
৩. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অঞ্চলটির উন্নয়নে যে কাজ করছে, সেখানে সমাজবিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।অতএব, উদ্দীপকের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও সমস্যাগ্রস্ত সমাজের সার্বিক উত্তরণ ঘটাতে এবং টেকসই সামাজিক পরিবর্তন আনতে সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বাস্তবমুখী প্রয়োগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও