জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ফটোফসফোরাইলেশন কী?

    (1)
  2. খ)

    লিমিটিং ফ্যাক্টর বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উপরের চিত্র দুটির একে অপরের পরিবর্তন সম্পর্কিত আধুনিক মতবাদটি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র K এর মাধ্যমে সংঘটিত শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ADP এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন (Photophosphorylation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যখন কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন যে প্রভাবকটি সবচেয়ে কম পরিমাণে বা ন্যূনতম মাত্রায় উপস্থিত থাকে, সেই প্রভাবকটিই সমগ্র প্রক্রিয়াটির গতি নিয়ন্ত্রণ করে। ন্যূনতম মাত্রায় থাকা এই প্রভাবকটিকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (সীমিতকারী প্রভাবক) বলা হয়। বিজ্ঞানী ব্ল্যাকম্যান ১৯০৫ সালে এটি প্রস্তাব করেন। যেমন—সালোকসংশ্লেষণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো ও পানি থাকলেও যদি CO₂-এর পরিমাণ কম থাকে, তবে CO₂ লিমিটিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র K হলো বন্ধ পত্ররন্ধ্র এবং চিত্র L হলো খোলা পত্ররন্ধ্র। এদের একে অপরে পরিবর্তন অর্থাৎ পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া সম্পর্কিত আধুনিক ও সর্বজনগ্রাহ্য মতবাদটি হলো বিজ্ঞানী লেভিট (Levitt, 1974) প্রদত্ত 'প্রোটন প্রবাহ বা সক্রিয় পটাশিয়াম আয়ন (K⁺) ইনপুট মতবাদ'।

    ১. পত্ররন্ধ্র খোলা (চিত্র K থেকে L):

    • দিনের বেলায় নীল আলোর উপস্থিতিতে রক্ষীকোষের প্রোটন পাম্প সক্রিয় হয় এবং রক্ষীকোষ থেকে প্রোটন (H⁺) সহকারী কোষে বের হয়ে যায়।
    • রক্ষীকোষের তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সহকারী কোষ থেকে বিপুল পরিমাণ K⁺ আয়ন এবং Cl⁻ রক্ষীকোষে প্রবেশ করে।
    • রক্ষীকোষে K⁺ ও ম্যালিক এসিড (ম্যালেট আয়ন) জমা হওয়ায় কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় ও অন্তঃখনিজ অভিস্রবণ ঘটে। পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করায় রক্ষীকোষ স্ফীত হয়ে ওঠে।
    • রক্ষীকোষের ভেতরের প্রাচীর পুরু এবং বাইরের প্রাচীর পাতলা ও স্থিতিস্থাপক হওয়ায় বাইরের প্রাচীর স্ফীত হয়ে বাইরে প্রসারিত হয়, ফলে রন্ধ্রটি উন্মুক্ত হয় (চিত্র L)।

    ২. পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়া (চিত্র L থেকে K):

    • আলো কমে গেলে বা অন্ধকারে এবং পানিস্বল্পতার সময় অ্যাবসিসিক এসিড (ABA) হরমোন বৃদ্ধি পায়। প্রোটন পাম্প নিষ্ক্রিয় হয় এবং রক্ষীকোষ থেকে K⁺ আয়ন বের হয়ে যায়।
    • ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ হ্রাস পায় এবং বহিঃঅভিস্রবণের মাধ্যমে পানি রক্ষীকোষ থেকে বের হয়ে যায়। রক্ষীকোষ শ্লথ (flaccid) হয়ে সংকুচিত হয় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায় (চিত্র K)।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র K এবং L হলো যথাক্রমে বন্ধ ও খোলা পত্ররন্ধ্র। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে প্রধানত যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত ও সম্পন্ন হয় তা হলো প্রস্বেদন (Transpiration)। উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদনের গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন: প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় যে চোষণ টানের সৃষ্টি হয়, তার মাধ্যমেই মূলরোম দ্বারা শোষিত পানি ও খনিজ লবণ জাইলেম বাহিকার মাধ্যমে উদ্ভিদের শীর্ষদেশে পরিবাহিত হয়।

    ২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: তীব্র সূর্যালোকের কারণে উদ্ভিদের পাতা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে কোষের ক্ষতি হতে পারত। প্রস্বেদনের মাধ্যমে পানি বাষ্পীভূত হয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় সুপ্ততাপ গ্রহণ করে, ফলে উদ্ভিদের দেহ শীতল ও উপযুক্ত তাপমাত্রায় থাকে।

    ৩. কোষের স্ফীতি ও আকার বজায় রাখা: প্রস্বেদন টান কোষরসের ঘনত্ব এবং কোষাভ্যন্তরে পানির টান নিয়ন্ত্রণে রেখে উদ্ভিদের অঙ্গসমূহকে দৃঢ় ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

    ৪. অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন: উদ্ভিদ মূলের মাধ্যমে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে, তার মাত্র সামান্য অংশ বিপাকীয় কাজে ব্যয় হয়। প্রস্বেদনের মাধ্যমেই উদ্ভিদ তার দেহের অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের করে দিয়ে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।

    ৫. জৈবিক বিক্রিয়া সচল রাখা: প্রস্বেদনের সাথে পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসীয় আদান-প্রদান (CO₂ ও O₂) ঘটে থাকে।

    তবে অতিরিক্ত প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদে পানিশূন্যতা ঘটে উইল্টিং বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে, এজন্য কার্টিস একে 'Necessary Evil' বলে আখ্যায়িত করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রস্বেদন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন