যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

তিন বন্ধুর মধ্যে ত্রিভুজের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রথম বন্ধু ত্রিভুজকে সমবাহু ও সমদ্বিবাহু এই দুই ভাগে ভাগ করল। দ্বিতীয় বন্ধু ত্রিভুজকে সমদ্বিবাহু, সমবাহু, বিষমবাহু ও বর্গক্ষেত্রে ভাগ করল। তৃতীয় বন্ধু বলল, কোনো পদকে ভাগ করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

  1. ক)

    অঙ্গগত বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    সংকর বিভাগ অনুপপত্তি কখন ঘটে?

    (2)
  3. গ)

    প্রথম ও দ্বিতীয় বন্ধুর বক্তব্যে কোন কোন অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তৃতীয় বন্ধুর বক্তব্যে যে ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে তার যেকোনো দুটি নিয়ম বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো বিশিষ্ট বা সামগ্রিক বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভাগ করাকে অঙ্গগত বিভাগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে একই সময়ে একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করলে যে ভ্রান্তি বা অনুপপত্তি ঘটে, তাকে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি বলে। যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগে কেবল একটিমাত্র মূলসূত্র অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু যদি একই সাথে দুটি বা ততোধিক মূলসূত্র প্রয়োগ করে বিভাগ করা হয়, তবে উপশ্রেণিগুলো পরস্পরকে অতিপাত করে এবং সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রথম বন্ধুর বক্তব্যে 'অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি' এবং দ্বিতীয় বন্ধুর বক্তব্যে 'অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি' ঘটেছে।

    যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, বিভক্ত উপশ্রেণিগুলোর ব্যক্ত্যর্থের সমষ্টি মূল পদের ব্যক্ত্যর্থের সমান হতে হবে। প্রথম বন্ধু ত্রিভুজকে সমবাহু ও সমদ্বিবাহু এই দুই ভাগে ভাগ করেছে, কিন্তু সে 'বিষমবাহু' ত্রিভুজকে বাদ দিয়েছে। এর ফলে উপশ্রেণিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ মূল পদ 'ত্রিভুজ'-এর চেয়ে কম হয়ে গেছে। তাই এখানে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় বন্ধু ত্রিভুজকে সমদ্বিবাহু, সমবাহু, বিষমবাহু এবং বর্গক্ষেত্রে ভাগ করেছে। এখানে 'বর্গক্ষেত্র' ত্রিভুজের কোনো উপশ্রেণি নয়, এটি চতুষ্তল বা চতুর্ভুজের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে উপশ্রেণিগুলোর ব্যক্ত্যর্থের সমষ্টি মূল পদের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। সুতরাং, দ্বিতীয় বন্ধুর বক্তব্যে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৃতীয় বন্ধুর বক্তব্যে যৌক্তিক বিভাগের নিয়মের প্রতিফলন ঘটেছে। যৌক্তিক বিভাগের যেকোনো দুটি নিয়ম নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রথম নিয়ম: যৌক্তিক বিভাগ সর্বদাই কোনো জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিসমূহে বিভক্ত করে; কোনো ব্যক্তিকে বা একক বস্তুকে নয়।
    বিশ্লেষণ: যৌক্তিক বিভাগ কোনো বস্তুর অঙ্গ বা গুণগত বিভাজন নয়, এটি একটি জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের ব্যক্ত্যর্থের বিশ্লেষণ। যেমন—'মানুষ' জাতিকে তার উপজাতি 'সৎ মানুষ' ও 'অসৎ মানুষ'-এ ভাগ করা যায়। কিন্তু কোনো একক ব্যক্তি (যেমন- রহিম)-কে তার হাত, পা ইত্যাদিতে ভাগ করা যৌক্তিক বিভাগ নয়, তা হলো অঙ্গগত বিভাগ।

    ২. দ্বিতীয় নিয়ম: যৌক্তিক বিভাগে সবসময় একটিমাত্র মূলনীতি বা মূলসূত্র গ্রহণ করতে হয়।
    বিশ্লেষণ: একটি নির্দিষ্ট বিভাগের ক্ষেত্রে কেবল একটি ভিত্তি বিবেচনা করা আবশ্যক। ভিত্তি হতে পারে বর্ণ, শিক্ষা, সততা ইত্যাদি। কিন্তু যদি একই সাথে একাধিক ভিত্তি গ্রহণ করা হয় (যেমন—মানুষ জাতিকে 'সৎ', 'শিক্ষিত' ও 'ধনী' হিসেবে ভাগ করা), তবে উপশ্রেণিগুলো স্বতন্ত্র থাকে না, বরং সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। সুতরাং, সঠিক যৌক্তিক বিভাগের জন্য একক মূলসূত্রের অনুসরণ অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন