ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
আরবের জাহেলিয়া যুগে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। এ সময় কন্যাসন্তানের জন্ম ছিল অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার। প্রধানত সামাজিক দিক থেকে লজ্জা এবং দারিদ্র্যের ভয়ে অনেকে। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। বনু কুরাইশ ও বনু তামিম গোত্রের লোকেরা কন্যাসন্তানকে হত্যা করে গর্বিত পিতার সম্মান অর্জন করত। অবশেষে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের পর সমাজে নারীর অবস্থার উন্নয়ন ঘটে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক)(1)
টিপু সুলতান কোথাকার শাসক ছিলেন?
- খ)(2)
অধীনতামূলক মিত্রতানীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির সাথে তোমার পঠিত কোন ইংরেজ শাসকের সংস্কার কাজের মিল আছে?
- ঘ)(4)
ভারতীয় হিন্দু নারীসমাজ তাদের অধিকার রক্ষায় অনেকাংশেই ইংরেজ শাসকদের নিকট ঋণী, তুমি কি একমত, তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টিপু সুলতান মহীশূরের (মহীশূর রাজ্যের) শাসক ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধীনতামূলক মিত্রতানীতি হলো ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক প্রবর্তিত এমন একটি রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে ভারতীয় দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করে তোলা হতো। এই নীতি গ্রহণকারী রাজ্যকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার নামে নিজ খরচে ব্রিটিশ সৈন্য রাখতে হতো এবং ব্রিটিশদের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো শক্তির সাথে যুদ্ধ বা চুক্তি করার অধিকার থাকত না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির সাথে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সংস্কার কাজের বিশেষ মিল রয়েছে।
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ছিলেন একজন সমাজ-সংস্কারক ইংরেজ গভর্নর জেনারেল। তৎকালীন হিন্দু সমাজে 'সতীদাহ প্রথা' নামক এক অত্যন্ত অমানবিক ও নৃশংস কুসংস্কার প্রচলিত ছিল, যেখানে মৃত স্বামীর চিতায় জীবিত বিধবা স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা হতো। বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহন রায়ের সহযোগিতায় ১৮২৯ সালে ১৭ নম্বর রেগুলেশন আইন পাসের মাধ্যমে এই বর্বর সতীদাহ প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করেন। এছাড়া তিনি কন্যাসন্তান হত্যা রোধেও আইন প্রণয়ন করেছিলেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসলামের আগমনের পূর্বে আরবে কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দিয়ে হত্যা করার যে নিষ্ঠুর প্রথা ছিল, ইসলামের আবির্ভাবের মাধ্যমে তা বন্ধ হয়ে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। অনুরূপভাবে ভারতবর্ষে জীবিত হিন্দু নারীদের চিতায় পুড়িয়ে মারার কুপ্রথা বন্ধ করে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক নারীদের জীবন রক্ষা ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ভারতীয় হিন্দু নারীসমাজ তাদের অধিকার রক্ষায় অনেকাংশেই ইংরেজ শাসকদের নিকট ঋণী"—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
তৎকালীন ব্রিটিশপূর্ব ভারতে হিন্দু সমাজব্যবস্থা বহু ধরনের ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও নিপীড়নমূলক প্রথায় আচ্ছন্ন ছিল। নারীদের সেখানে প্রায় কোনো মানবিক বা সামাজিক অধিকার ছিল না। ইংরেজ শাসনামলে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও আধুনিক উদারনৈতিক চিন্তাধারার সংস্পর্শে এসে কয়েকজন ভারতীয় সমাজসংস্কারক নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন এবং ব্রিটিশ শাসকরা এ বিষয়ে সক্রিয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
প্রথমত, ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক আইন করে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন, যা হিন্দু নারীদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ত, ১৮৫৬ সালে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক 'হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন' পাস হয়, যা বিধবাদের সামাজিক পুনর্বাসনের পথ সুগম করে। তৃতীয়ত, গঙ্গাসাগরে প্রথম কন্যাসন্তান বিসর্জন দেওয়ার কুপ্রথা এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রণয়নও ব্রিটিশ শাসকদের মাধ্যমেই কার্যকর হয়েছিল।
যদিও এ আন্দোলনগুলোর পেছনে ভারতীয় সংস্কারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিল, কিন্তু ইংরেজ শাসকদের শাসনতান্ত্রিক ও আইনি ক্ষমতা ব্যতীত এই শক্তিশালী সামাজিক কুসংস্কারগুলো দূর করা সম্ভব ছিল না। সুতরাং, আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে নারীদের অধিকার রক্ষায় ইংরেজ শাসকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং এজন্য হিন্দু নারীসমাজ অনেকাংশেই তাদের নিকট ঋণী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও