পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: নির্বাচনের সময় এলেই এলাকাজুড়ে নেমে আসে ব্যস্ততা। পোস্টার, স্লোগান আর সভা সমাবেশে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তরুণরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে, নেতারা মানুষের কাছে গিয়ে সমস্যা শোনেন এবং সমাধানের কথা বলেন। বিভিন্ন সংগঠনের বিভিন্ন বক্তব্যে সাধারণ মানুষ তুলনা করার সুযোগ পায় এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে সমাজে নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা ও সচেতনতা বাড়ে।
দৃশ্যপট-২ : সকালে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষকরা হাতে প্লাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তারা বেতন ও পদোন্নতির দাবি তুলে ধরেন এবং কর্তৃপক্ষকে স্মারক লিপি দেন। এই তৎপরতায় সংশ্লিষ্ট মহল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
একদলীয় ব্যবস্থা কাকে বলে?
- খ)(2)
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এর ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সংগঠনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত সংগঠনটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রে কেবলমাত্র একটিমাত্র রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ও বৈধতা থাকে এবং অন্য কোনো দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকে, তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতন্ত্রকে সচল ও অর্থবহ রাখতে রাজনৈতিক দল অপরিহার্য, কারণ এটি জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক দল জনমত গঠন করে, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় এবং জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের নিকট তুলে ধরে। পাশাপাশি, বিরোধী দল হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের ভুলত্রুটি সমালোচনা করে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে, যার অনুপস্থিতিতে গণতন্ত্র একনায়কতন্ত্রে রূপ নিতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১ এর ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের রাজনৈতিক দলের মিল রয়েছে।
রাজনৈতিক দল হলো একটি নির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে গঠিত এমন এক সংগঠন, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চায়।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, নির্বাচনের সময় পোস্টার, স্লোগান, সভার আয়োজন, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং নেতাদের জনগণের কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের বক্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সমাজে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বাড়ে। পাঠ্যবই অনুযায়ী এই কাজগুলো রাজনৈতিক দলের মূল কার্যক্রম ও বৈশিষ্ট্যের অংশ। অতএব, উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী' (Interest/Pressure Group)-র সাদৃশ্য রয়েছে। শিক্ষকদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় প্লাকার্ড প্রদর্শন, স্মারকলিপি প্রদান ও গণমাধ্যমের সাহায্যে সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল বৈশিষ্ট্য।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: এ সংগঠনগুলো সরকারের যে কোনো স্বেচ্ছাচারী বা একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ও দায়বদ্ধ করে তোলে।
২. জনস্বার্থ ও গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা: সমাজের নির্দিষ্ট পেশাজীবী বা বঞ্চিত শ্রেণির ন্যায্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরে তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে, যা সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
৩. আইন ও নীতি প্রণয়নে সহায়তা: তারা বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সরকারকে সঠিক নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবিত করে।
৪. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: সুনির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এ গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলে।সুতরাং, দৃশ্যপট-২ এর শিক্ষকদের মতো চাপসৃষ্টিকারী দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও