বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ঈশিতা বাংলা বিভাগের উচ্ছল প্রাণবন্ত মেয়ে। আড্ডার আসরকে সে মাতিয়ে রাখে। বাংলা বিভাগ প্রতিবারের মতো এবারও বসন্ত উৎসব পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। ঈশিতা বরাবরই এই ধরনের আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। উৎসবের দিন রূপময় প্রকৃতির নান্দনিকতা ও উৎসব প্রাঙ্গনের বর্ণিল বিন্যাস একাকার হয়ে অভূতপূর্ব আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এই কোলাহলমুখর আনন্দঘন পরিবেশে প্রাণবন্ত ঈশিতা যেন প্রাণহীন, ছন্দহীন, গম্ভীর ও বিষণ্ণ। জানা গেল, তিন বছর আগে হারানো মায়ের স্মৃতিই আজ তার অন্তরকে বেদনাচ্ছন্ন করে রেখেছে।

  1. ক)

    গঠনরীতির দিক থেকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কোন ধরনের কবিতা?

    (1)
  2. খ)

    "পুষ্পারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?" কবিতার এই চরণটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঈশিতা ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিসত্তার ঐক্য নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় একই জীবন-সত্যের পরিচয় উদ্‌ঘাটিত হয়েছে" বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গঠনরীতির দিক থেকে 'তাহারেই পড়ে মনে' একটি সংলাপনির্ভর বা নাটকীয় গুণসম্পন্ন ভাবপ্রধান গীতিকবিতা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "পুষ্পারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?" বলতে বসন্ত ঋতু প্রকৃতিতে ফুলে ফুলে সজ্জিত অঞ্জলি বা ফুলের দ্বারা বন্দনা পেয়েছে কি না—কবিভক্তের এই জিজ্ঞাসাকে বোঝানো হয়েছে।

    প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটলেও কবি সুফিয়া কামাল উদাসীন ও বিষণ্ণ হয়ে আছেন। বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার জন্য কবির কোনো আয়োজন বা কাব্যচর্চা নেই। কবির এই নীরবতা দেখে বিস্মিত ভক্ত কবিকে প্রশ্ন করেন—ফুলের সাজে কি ঋতুরাজ বসন্তের বন্দনা বা পুষ্পার্ঘ্য রচিত হয়নি? মূলত কবির নির্লিপ্ততার কারণ জানতে গিয়েই ভক্ত আলোচ্য চরণটি উচ্চারণ করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঈশিতা ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিসত্তার মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশে প্রিয়জন হারানোর বেদনায় বিষাদগ্রস্ত থাকার দিক দিয়ে গভীর ঐক্য বিদ্যমান।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় চারিদিকে রূপময় ঋতুরাজ বসন্তের নান্দনিক আগমন সত্ত্বেও কবি সুফিয়া কামালের মন রিক্ত ও বিষাদময়। তিনি তাঁর প্রয়াত স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রধান প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের স্মৃতি ভুলে থাকতে পারেন না। তাঁর কাছে প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য ম্লান হয়ে গেছে এবং প্রিয়জনের চিরবিদায়ে তিনি নিঃসঙ্গ ও উদাসীন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাংলা বিভাগের উচ্ছল-প্রাণবন্ত মেয়ে ঈশিতা বসন্ত উৎসবের সার্বিক আয়োজন করলেও উৎসবের দিনে রূপময় প্রকৃতির আনন্দঘন পরিবেশে সে সম্পূর্ণ ছন্দহীন, বিষণ্ণ ও অন্তর্মুখী হয়ে পড়ে। এর কারণ হলো তিন বছর আগে হারানো তার মায়ের স্মৃতি তার হৃদয়কে আকুল করে রেখেছে। সুতরাং, আনন্দোৎসবের মধ্যে ব্যক্তিগত বিয়োগব্যথা ও শোকাতুর অনুভূতির প্রভাবে উদাসীন হয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ঈশিতার মানসিক অবস্থা এবং কবিতার কবিসত্তা এক ও অভিন্ন সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় একই জীবন-সত্যের পরিচয় উদ্‌ঘাটিত হয়েছে"—মন্তব্যটি যথার্থ।

    মানুষের মন স্বভাবতই বাহ্যিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হলেও গভীরতম শোকের কাছে পারিপার্শ্বিক সকল আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। মানবমনের এই চিরন্তন সত্যটিই উদ্দীপক ও কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতির নিয়মে ঋতুরাজ বসন্ত এসেছে গাছে গাছে ফুল ফুটিয়ে আর দখিনা সমীরণের স্পর্শ নিয়ে। কিন্তু কবির হৃদয়জুড়ে বিরাজ করছে তাঁর অকালপ্রয়াত স্বামীর শোকস্মৃতি। পারিপার্শ্বিক এই অপার রূপ-রস-আনন্দ কবির অন্তরের হাহাকারকে ঘোচাতে পারে না, বরং তা বিরহবেদনাকে আরও তীব্র করে তোলে।

    উদ্দীপকেও অনুরূপভাবে দেখা যায়, বসন্ত উৎসবের বর্ণিল কোলাহল এবং প্রকৃতির চোখজুড়ানো সৌন্দর্যের মাঝেও ঈশিতা আনন্দিত হতে পারছে না। হারানো মায়ের বেদনা তার মনের সবটুকু আলো কেড়ে নিয়ে তাকে প্রাণহীন ও বিষণ্ণ করে রেখেছে।

    উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট যে, বাহ্যিক রূপ-লাবণ্য বা উৎসবের আমেজ মনের গভীরের শোক ও রিক্ততাকে দূর করতে পারে না। প্রিয়জন হারানোর হাহাকার সমস্ত জাগতিক আনন্দকে অর্থহীন করে দেয়। এই চিরন্তন মনস্তাত্ত্বিক সত্যটি উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় গভীরভাবে উদ্‌ঘাটিত হওয়ায় উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন