সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক আইন • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

করিম সাহেব তার বড় ছেলে মারা যাবার পর তার সম্পত্তি জীবিত সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করেন। কিন্তু বড় ছেলের সন্তানদের তিনি কোনো সম্পদ প্রদান করেননি। এ ক্ষেত্রে তিনি দেশে প্রচলিত আইন ভঙ্গ করেন।

  1. ক)

    দেনমোহর কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক আইন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন আইনের কথা বলা হয়েছে? এর উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শিশুর কল্যাণ এবং নিরাপত্তায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহের চুক্তি সম্পাদনের সময় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে যে নির্দিষ্ট অর্থ বা সম্পত্তি প্রদান করতে হয়, তাকে দেনমোহর বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক আইন হলো সমাজস্থ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ, সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দূরীকরণ এবং সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্বল শ্রেণির অধিকার সংরক্ষণ ও সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও কার্যকর বিধিবিধানের সমষ্টি। সামাজিক আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, সামাজিক শোষণ-বৈষম্য রোধ এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৬১ সালের 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-এর কথা বলা হয়েছে।

    এ আইনের ৪ নং ধারায় এতিম নাতি-নাতনির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পিতার মৃত্যুর পূর্বে কোনো সন্তান মারা গেলে এবং পরবর্তীতে পিতার মৃত্যু হলে, মৃত সন্তানের জীবিত উত্তরাধিকারীগণ (ছেলে-মেয়ে) ঐ অংশ পাবে যা তাদের পিতা বেঁচে থাকলে পেত। করিম সাহেব বড় ছেলের সন্তানদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ১৯৬১ সালের পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছেন।

    এই আইনের উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো:
    ১. উত্তরাধিকার (ধারা ৪): পিতার জীবদ্দশায় কোনো সন্তান মৃত্যুবরণ করলে ঐ মৃত সন্তানের সন্তানাদি তাদের পিতার প্রাপ্য অংশ উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করবে।
    ২. বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ (ধারা ৬): বর্তমান স্ত্রীর জীবদ্দশায় সালিসি পরিষদের অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
    ৩. তালাক কার্যকরীকরণ (ধারা ৭): যেকোনো পক্ষ তালাক দিতে চাইলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
    ৪. দেনমোহর ও খোরপোষ (ধারা ৯ ও ১০): স্বামী স্ত্রীকে উপযুক্ত দেনমোহর ও নিয়মিত ভরণপোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে; ব্যর্থতায় আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে।
    ৫. বিবাহ নিবন্ধন (ধারা ৫): প্রতিটি মুসলিম বিবাহ বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন করতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিশুর কল্যাণ ও নিরাপত্তায় ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, করিম সাহেব তাঁর মৃত বড় ছেলের সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পদ বণ্টন করেন, যা প্রচলিত ১৯৬১ সালের আইনের পরিপন্থী। মুসলিম শরিয়াহ আইনের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পিতার জীবদ্দশায় কোনো পুত্র মারা গেলে পুত্রের সন্তানরা পিতামহের সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হতো। ফলে পিতৃহীন শিশুরা তীব্র আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতো।

    ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারা এতিম শিশুদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। এ আইনের মাধ্যমে বিধান রাখা হয় যে, কোনো ব্যক্তির উত্তরাধিকার উন্মুক্ত হওয়ার পূর্বে তাঁর কোনো পুত্র বা কন্যা মারা গেলে মৃত পুত্র বা কন্যার জীবিত সন্তানরা তাদের পিতা বা মাতার প্রাপ্য অংশ পাবে।

    এর ফলে পিতৃহারা এতিম শিশুরা পরিবারে নিঃস্ব হওয়া থেকে রক্ষা পায়, তাদের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়। এছাড়া এ আইনের বাল্যবিয়ে রোধ সংক্রান্ত ধারা এবং তালাক ও খোরপোষের বিধানও পরোক্ষভাবে শিশুদের সুন্দর ও স্বাভাবিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। সুতরাং, শিশুর সামগ্রিক কল্যাণ, বিকাশ ও অধিকার সুরক্ষায় ১৯৬১ সালের এ আইনটি এক অনন্য আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন