কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

করবীর দাদী পারিবারিক ভাবে মুরগি পালন করে এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা ফুটায়। গত বছর বাচ্চা ফুটাবার সময় অধিকাংশ ডিম নষ্ট হয়ে গেছে। করবীর দাদীকে ডিম নষ্ট হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করায় সাদী বলল ডিমে হয়তো কোনো সমস্যা ছিল। একথা শুনে করবী বলল, "ডিম ফোটানোর আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করাই উত্তন।"

  1. ক)

    কুঁচে মুরগি কী?

    (1)
  2. খ)

    তোমার জানা মুরগির দুটি ভাইরাসজনিত রোগের নাম উল্লেখ করো।

    (2)
  3. গ)

    বাচ্চা ফুটানোর ডিমগুলো নষ্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ডিম ফুটানোর আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করাই উত্তম"-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে দেশি মুরগি ডিমে তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়, তাকে কুঁচে মুরগি (বা কুঁচে/কুঁড়ো মুরগি) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুরগির দুটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ হলো:
    ১. রাণীক্ষেত (Ranikhet / Newcastle disease)
    ২. গামবোরো (Gumboro / Infectious Bursal Disease)।
    এগুলো ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয় এবং অত্যন্ত সংক্রামক ও মরণঘাতী রোগ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে করবীর দাদীর প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটানোর সময় অধিকাংশ ডিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ রয়েছে:
    ১. অনিষিক্ত ডিম নির্বাচন: প্রজননক্ষম মোরগ ছাড়া সংগৃহীত বা ডিম উৎপাদনকারী মুরগির ডিম হলে সেগুলো নিষিক্ত (Fertile) ছিল না, ফলে বাচ্চা ফোটেনি।
    ২. ডিমের ত্রুটি: ডিমগুলোর খোলস পাতলা, ফেটে যাওয়া বা বিকৃত আকারের হলে তা তা দেওয়ার উপযুক্ত থাকে না।
    ৩. ডিম সংরক্ষণের ভুল: ডিমগুলো তা দেওয়ার আগে অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্র স্থানে দীর্ঘদিন (৭-১০ দিনের বেশি) সংরক্ষণ করলে ভ্রূণ মারা যায়।
    ৪. কুঁচে মুরগির সঠিক যত্ন ও বসার অভাব: তা দেওয়ার সময় কুঁচে মুরগি নিয়মিত না বসলে, মাঝপথে বাসা ছেড়ে দিলে অথবা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্য হলে ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়।
    ৫. রোগজীবাণু বা পোকামাকড়ের আক্রমণ: ডিমের বাসায় উকুন, মাছি বা জীবাণুর সংক্রমণ থাকলে ডিম নষ্ট হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করবীর উক্তি—"ডিম ফোটানোর আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করাই উত্তম"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও বিজ্ঞানসম্মত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ডিম ফোটানোর আধুনিক বা কৃত্রিম পদ্ধতি হলো ইনকিউবেটর ব্যবহার করা। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে একটি কুঁচে মুরগি একসাথে মাত্র ১০-১২টি ডিম তা দিয়ে ফোটাতে পারে, যেখানে ইনকিউবেটরে একসাথে শত শত বা হাজার হাজার ডিম ফোটানো সম্ভব।
    ২. প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মুরগির মেজাজ, রোগবালাই বা বসার অনিয়মের কারণে অনেক সময় ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়, যেমনটি করবীর দাদীর ক্ষেত্রে ঘটেছে। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিমের সঠিক তাপমাত্রা (৯৯.৫°–১০২°F), আর্দ্রতা (৬০–৭০%), ভেন্টিলেশন ও ডিম উল্টানোর কাজটি সঠিকভাবে বজায় রাখা যায়।
    ৩. আধুনিক পদ্ধতিতে 'ক্যান্ডলিং' পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই বীজডিম বা নিষিক্ত ডিম শনাক্ত করা যায় এবং নষ্ট বা অনিষিক্ত ডিম আগেই আলাদা করা যায়। এর ফলে ডিম নষ্ট হওয়ার হার খুবই কম থাকে এবং বাচ্চা ফোটার সাফল্যের হার (Hatching rate) অনেক বেশি হয়।
    ৪. বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালনে সময়মতো ও নির্দিষ্ট পরিমাণে সুস্থ-সবল বাচ্চা পাওয়ার জন্য কৃত্রিম পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

    সুতরাং, ঝুঁকি হ্রাস, অপচয় রোধ এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতার কথা বিবেচনা করলে আধুনিক ইনকিউবেটর পদ্ধতি ব্যবহার করাই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন