কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
BCRDV কী?
- খ)(2)
কবুতর পালন লাভজনক কেন?
- গ)(3)
চিত্রে প্রদর্শিত মুরগিটি কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
গৃহপালিত পাখি পালনের ক্ষেত্রে চিত্রে প্রদর্শিত রোগের ব্যাপারে তোমার গৃহীত পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BCRDV হলো 'Baby Chick Ranikhet Disease Vaccine', যা রানীক্ষেত রোগ প্রতিরোধের জন্য মুরগির ছোট বাচ্চাদের চোখে প্রয়োগ করা একটি প্রতিরোধক টিকা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবুতর পালন অত্যন্ত লাভজনক, কারণ এদের পালনে স্বল্প পুঁজি, কম বাসস্থান ও কম খাদ্য লাগে। এরা সাধারণত নিজেরাই চারপাশের পরিবেশ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকতে পারে। কবুতরের প্রজনন হার অত্যন্ত দ্রুত; এরা প্রায় সারা বছরই ডিম পাড়ে ও বাচ্চা ফোটায়। কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও বাজারে এর উচ্চ চাহিদা রয়েছে। রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়া যায় বলে কবুতর পালন একটি লাভজনক পেশা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে প্রদর্শিত মুরগিটি 'রানীক্ষেত' (বা গামবোরো) রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
রানীক্ষেত রোগটি প্যারামিক্সোভাইরাস (Paramyxovirus) দ্বারা সৃষ্ট একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে মুরগিটি পালক ফুলিয়ে, মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে নিস্তেজ হয়ে বসে ঝিমোচ্ছে—যা রানীক্ষেত রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এই রোগে আক্রান্ত হলে মুরগির চোখ বুজে ঝিমানো, শ্বাসকষ্ট হওয়া, হাঁ করে শ্বাস নেওয়া, নাক ও মুখ দিয়ে তরল শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া, চুনের মতো সাদা বা সবুজাভ পাতলা মল ত্যাগ করা এবং তীব্র ক্ষেত্রে ঘাড় বাঁকা হয়ে প্যারালাইসিস হওয়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই বাহ্যিক লক্ষণাদি ও দৈহিক অবস্থান বিবেচনা করে বলা যায়, মুরগিটি রানীক্ষেত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গৃহপালিত পাখি পালনের ক্ষেত্রে চিত্রে প্রদর্শিত রানীক্ষেত রোগের মতো সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগের ব্যাপারে আমার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সময়মতো টিকাদান (Vaccination): রানীক্ষেত রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করা। মুরগির বাচ্চার ৪-৫ দিন বয়সে চোখে এক ফোঁটা BCRDV টিকা দেওয়া এবং পরবর্তীতে ২১ দিন বয়সে দ্বিতীয়বার বুস্টার ডোজ হিসেবে একই টিকা প্রয়োগ করব। এরপর ২ মাস বা তার বেশি বয়সে RDV টিকা চামড়ার নিচে বা মাংসে প্রয়োগ নিশ্চিত করব।
২. দ্রুত পৃথকীকরণ ও কোয়ারেন্টিন: খামারের কোনো পাখি আক্রান্ত হওয়ার সামান্যতম লক্ষণ প্রকাশ করলেই তাকে সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ পাখিগুলো থেকে আলাদা করে পৃথক ঘরে চিকিৎসা বা পর্যবেক্ষণে রাখব।
৩. জৈব নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ: খামার ও এর আশপাশ নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখব। বহিরাগত মানুষ, পাখি বা ইঁদুর যেন খামারে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
৪. পুষ্টিকর খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সুষম খাবার, ভিটামিন, খনিজ এবং সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ জীবাণুমুক্ত পানি সরবরাহ করব।
৫. মৃত পাখির নিরাপদ অপসারণ: এ রোগে কোনো পাখি মারা গেলে রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য মৃতদেহকে মাটিতে গভীর গর্ত করে পুঁতে ফেলব অথবা পুড়িয়ে ফেলব।
রানীক্ষেত একটি ভাইরাসঘটিত রোগ হওয়ায় এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই; ফলে উপরোক্ত জৈব নিরাপত্তা ও নিয়মিত টিকাদান সম্পর্কিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই গৃহপালিত পাখিকে এই মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও