‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব 'ক' এমন এক বিভাগে কাজ করেন যার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করা।

  1. ক)

    আইন প্রধানত কয় প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    আইন ও নৈতিকতার সম্পর্ক নিরূপণ করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব 'ক' যে বিভাগে কাজ করেন তার কার্যাবলি আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত বিভাগের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন প্রধানত ৩ প্রকার (জাতীয় আইন, আন্তর্জাতিক আইন ও শাসনতান্ত্রিক আইন; মতান্তরে সরকারি ও বেসরকারি আইন)। সাধারণভাবে আইনকে রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইন—এই দুই বা তিন ভাগে প্রধানত ভাগ করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন ও নৈতিকতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও নিবিড়। আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও স্বীকৃত বাধ্যতামূলক নিয়মাবলি, যা ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয়। অন্যদিকে নৈতিকতা হলো মানুষের বিবেকপ্রসূত ভালো-মন্দের ধারণা। আইনের ভিত্তি মূলত নৈতিকতা থেকেই উৎসারিত; যা অনৈতিক (যেমন: চুরি, হত্যা, দুর্নীতি), আইনও তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। তবে সব নৈতিক নিয়ম আইন নয়, যেমন মিথ্যা বলা অনৈতিক হলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছাড়া তা সবসময় শাস্তিযোগ্য নয়। তবুও একটি সুস্থ সমাজের জন্য আইন ও নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব 'ক' যে বিভাগে কাজ করেন, তার প্রধান দায়িত্ব আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করা—অতএব এটি সরকারের 'বিচার বিভাগ' (Judiciary)।

    বিচার বিভাগের প্রধান কার্যাবলি নিম্নরূপ:
    ১. ন্যায়বিচার পরিচালনা: দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা-মোকদ্দমায় প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে দোষীকে শাস্তি দেওয়া এবং নির্দোষকে মুক্তি দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
    ২. সংবিধানের অভিভাবকত্ব ও ব্যাখ্যা: সংবিধানের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা এবং কোনো আইন বা সরকারি আদেশ সংবিধানবিরোধী হলে তা বাতিল করা (Judicial Review)।
    ৩. মৌলিক অধিকার রক্ষা: বিচার বিভাগ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অতন্দ্র প্রহরী। নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে বিচার বিভাগ রিট জারি করে তা রক্ষা করে।
    ৪. আইন সৃষ্টি সংক্রান্ত কাজ: বিদ্যমান আইনের অস্পষ্টতা দূর করতে বিচারকগণ রায় ঘোষণার সময় যে ব্যাখ্যা দেন, তা পরবর্তী সময়ে বিচারিক নজির হিসেবে আইনে রূপ নেয়।
    ৫. অন্যান্য কাজ: নাবালকের অভিভাবকত্ব নির্ধারণ, অছি নিয়োগ, উইল অনুমোদন ইত্যাদি প্রশাসনিক ও সালিশি কাজও বিচার বিভাগ সম্পন্ন করে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের শাসন (Rule of Law) প্রতিষ্ঠার প্রধান পূর্বশর্ত হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এর কার্যকর ভূমিকা। উদ্দীপকে নির্দেশিত বিচার বিভাগ নিম্নোক্ত উপায়ে আইনের শাসন নিশ্চিত করে:

    ১. আইনের চোখে সমতা প্রতিষ্ঠা: আইনের শাসন অনুসারে ধনী-দরিদ্র, শাসক-শাসিত নির্বিশেষে সকলে আইনের দৃষ্টিতে সমান। বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে সবার ওপর সমভাবে আইন প্রয়োগ করে এই সমতা বজায় রাখে।
    ২. ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ: নির্বাহী বা আইন বিভাগ যদি তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে গিয়ে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে স্বাধীন বিচার বিভাগ তা অবৈধ ঘোষণা করে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে।
    ৩. মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: বিচার বিভাগ ছাড়া ব্যক্তি স্বাধীন ও নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে না। নাগরিকের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ রোধে আদালতের ভূমিকা অপরিসীম।
    ৪. বিনা বিচারে আটক রোধ: আইনের শাসন অনুযায়ী কাউকে উপযুক্ত কারণ ও বিচার ছাড়া আটক রাখা যায় না। বিচার বিভাগ হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন আদেশের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

    অতএব, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দক্ষ বিচার বিভাগ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন