কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
গত গ্রীষ্মের ছুটিতে খোকন তার বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে বের হলো। প্রথমে তারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গেল। সেখানে তারা সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় এক ধরনের বন দেখতে পেল। যা জোয়ার- ভাটায় প্লাবিত হয়। পরে তারা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে বেড়াতে গেল। সেখানে তারা উঁচু এলাকায় এক ধরনের বন দেখতে পেল। এই এলাকার বনে মাঝে মাঝে হাতি দেখা যায় বলে তারা জানতে পারল।
- ক)(1)
বন কী?
- খ)(2)
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বনের গুরুত্ব আলোচনা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথমোক্ত বনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বন দুইটির বৈশিষ্ট্য তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিকভাবে বা মানুষের দ্বারা সৃজিত বৃক্ষরাজি ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ দ্বারা আচ্ছাদিত সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম ভৌগোলিক এলাকাকে বন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
বন বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, পাখি, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদের নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে। বনের বাস্তুতন্ত্রের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির জীব নিজ নিজ খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রেখে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। বন না থাকলে জীববৈচিত্র্য তাদের বাসস্থান হারিয়ে বিলুপ্তির মুখে পড়বে, তাই জীববৈচিত্র্য টিকে থাকার জন্য বন অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে খোকন ও তার বন্ধুদের প্রথমে দেখা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলীয় বনটি হলো ম্যানগ্রোভ বা লবণাক্ত পানির বন (সুন্দরবন)।
এই বনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. জোয়ার-ভাটার প্রভাব: এই বন প্রতিদিন নিয়মিতভাবে দুবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় এবং ভাটায় পানি নেমে যায়।
২. লবণাক্ত পরিবেশ: এখানকার মাটি ও পানি অত্যন্ত লবণাক্ত এবং কাদাযুক্ত পলিমাটিতে গঠিত।
৩. শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর (Pneumatophore): মাটিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা থাকায় উদ্ভিদের মূল মাটি ভেদ করে সোজা ওপরের দিকে উঠে আসে, যা দিয়ে গাছ শ্বাসকার্য চালায়।
৪. ঠেসমূল ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: মাটিতে গাছকে শক্তভাবে ধরে রাখতে ঠেসমূল দেখা যায় এবং গাছে ফল থাকা অবস্থাতেই ফলের বীজ অঙ্কুরিত হয়ে মাটিতে খাড়াভাবে পড়ে (জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম)।
৫. প্রধান উদ্ভিদ: এ বনের প্রধান উদ্ভিদের মধ্যে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, কেওড়া, বাইন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রথমোক্ত বনটি হলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বা উপকূলীয় লবণাক্ত বন (সুন্দরবন) এবং দ্বিতীয় বনটি হলো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি বন (যেমন: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনাঞ্চল)। নিম্নে এ দুই ধরনের বনের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূমি গঠন: ম্যানগ্রোভ বন সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু ও জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত পলিমাটির সমতল এলাকায় অবস্থিত। পক্ষান্তরে, পাহাড়ি বন দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের উঁচু-নিচু টিলা ও পাহাড়ি ভূখণ্ডে গড়ে উঠেছে।
২. পানির প্রাপ্যতা ও প্রকৃতি: ম্যানগ্রোভ বন প্রতিদিন লবণাক্ত পানির জোয়ার-ভাটা দ্বারা প্লাবিত হয়। কিন্তু পাহাড়ি বন মিষ্টি পানির ওপর নির্ভরশীল এবং এখানে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে গড়িয়ে নিষ্কাশিত হয়।
৩. উদ্ভিদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে প্রতিকূল লবণাক্ত পরিবেশ ও কাদামাটিতে বেঁচে থাকার জন্য শ্বাসমূল, ঠেসমূল এবং জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়। অপরদিকে পাহাড়ি বনের উদ্ভিদের এ ধরনের মূল থাকে না; বরং এদের কাণ্ড অত্যন্ত দীর্ঘ, শক্ত ও কাষ্ঠল হয়ে থাকে।
৪. উদ্ভিদের বৈচিত্র্য: ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী, গেওয়া, গরান, গোলপাতা ইত্যাদি। পাহাড়ি বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, গামারি, জারুল, বাঁশ, বেত ইত্যাদি।
৫. বন্যপ্রাণী: ম্যানগ্রোভ বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির ইত্যাদি প্রধান প্রাণী। অপরদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি বনে উদ্দীপকে উল্লিখিত হাতি ছাড়াও বানর, বুনো শূকর, চিতা বাঘ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি প্রভৃতি পাওয়া যায়।
পরিশেষে বলা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান, মাটির ধরন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে উদ্দীপকের বন দুটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও