‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

উপনিবেশিক শক্তি হতে স্বাধীনতা প্রাপ্ত একটি রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষাকে বাদ দিয়ে মাত্র ৩.২৭% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ নেয়। এ উদ্যোগ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ প্রত্যাখান করে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করে।

  1. ক)

    পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি কেন গঠন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের উক্ত আন্দোলনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে আধুনিক ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করা, পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত করানো এবং তাদের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮৬৩ সালে নবাব আবদুল লতিফ কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গঠন করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সাথে মুসলমানদের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে আধুনিক শিক্ষার বিস্তার ত্বরান্বিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।

    পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেখা যায়, তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। অথচ মাত্র ৩.২৭% লোকের ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগণ এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকে বর্ণিত ঔপনিবেশিক শক্তি থেকে স্বাধীন হওয়া রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে উপেক্ষা করে মাত্র ৩.২৭% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা এবং তার বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটটি মূলত আমাদের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সাথেই হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ছিল অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী।

    ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তানি শোষণ, শাসন এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। এ আন্দোলনের মাধ্যমেই দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানের অন্তঃসারশূন্যতা প্রথম উন্মোচিত হয়। ধর্মীয় পরিচয়কে ছাপিয়ে বাঙালিরা নিজেদের জাতিসত্তা ও ভাষাগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।

    ভাষা আন্দোলনের সাফল্য বাঙালিদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়। এই জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পরিচালিত হয়। অবশেষে ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে ভাষা আন্দোলনই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের মূল বীজ বা সূতিকাগার।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন