বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মধ্যযুগে বাংলার মুসলিম নারীসমাজ অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তো তারা পেতই না বরং চার দেয়ালে বন্দি জীবন কাটাতে হতো। ধর্মের নামে অধর্মের বেসাতি চালানো হতো তাদের উপর। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সর্বদাই নারীরা ছিল অবহেলার পাত্র। নিতান্তই হুকুম পালন ও ঘরকন্যা ছাড়া তাদের আর কোনো অধিকার ছিলনা।
- ক)(1)
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?
- খ)(2)
“শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি।"—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা উদ্দীপকে উল্লিখিত মুসলিম নারী সমাজেরই প্রতিনিধিত্ব করে।”—কথাটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা সর্বদাই অবহেলার পাত্র।” —উদ্দীপক 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তনু বিবি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি”— কথাটির মাধ্যমে মজিদের জন্মভূমির চরম অর্থনৈতিক অনটন ও সেই তুলনায় ধর্মীয় অনুশাসন ও কুসংস্কারের বাড়াবাড়িকে বোঝানো হয়েছে।
মজিদের অঞ্চলটি ছিল অনুর্বর ও অভাবপীড়িত; সেখানে মানুষের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো না। কিন্তু পেটে অন্ন না থাকলেও মানুষের মাথায় টুপি এবং ধর্মের নামে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ব্যাপক প্রাচুর্য ছিল। চাষযোগ্য জমিতে আগাছা জন্মালে যেমন আসল ফসল নষ্ট হয়, তেমনি প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে কুসংস্কাররূপী আগাছা সেখানকার মানুষের জীবনকে পঙ্গু করে রেখেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা উদ্দীপকে উল্লিখিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত ও বন্দি মুসলিম নারী সমাজেরই যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মধ্যযুগের মুসলিম নারীরা ছিল চার দেয়ালে বন্দি, অধিকারহীন এবং তারা ছিল নিতান্তই হুকুম পালন ও ঘরকন্যার পাত্র। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ধর্মীয় বিধিনিষেধের আড়ালে তাদের আত্মপ্রকাশের কোনো সুযোগ ছিল না।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা চরিত্রটিও এই চিরায়ত গ্রামীণ মুসলিম নারী সমাজের প্রতিচ্ছবি। সে মজিদের প্রথম স্ত্রী, যে সর্বদাই স্বামীর আদেশ-নির্দেশকে খোদার নির্দেশের মতো মেনে চলে। তার নিজস্ব কোনো মতামত বা স্বকীয়তা নেই; সারাদিন ঘরের যাবতীয় কাজ ও গৃহস্থালি সামলানোই তার কাজ। মজিদের প্রতি তার আনুগত্য প্রশ্নহীন ও ভীতিমিশ্রিত। ধর্মের নামে আরোপিত বিধিনিষেধকে সে নীরবে মেনে নেয় এবং নিজের কোনো মানবিক অধিকার দাবি করে না। এভাবে রহিমা উদ্দীপকে বর্ণিত নিরবচ্ছিন্ন হুকুম পালনকারী গৃহবন্দি নারী সমাজের চিত্রকেই সার্থকভাবে তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা সর্বদাই অবহেলার পাত্র”— উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সত্য।
উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রেখে চার দেয়ালে বন্দি করে রাখা হতো এবং কেবল পুরুষের আদেশ পালন ও গৃহস্থালির কাজেই তাদের সীমাবদ্ধ রাখা হতো। সেখানে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদের ওপর অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া হতো।
'লালসালু' উপন্যাসে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক গ্রামীণ সমাজের এ শোষণমূলক রূপটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। রহিমা চরিত্রটি স্বামীর সেবায় নিজেকে নিঃশেষ করলেও তার কোনো স্বাধীনতা বা মর্যাদা নেই; সে কেবল মজিদের সেবা ও ভয়ভীতির অধীনস্থ এক ছায়ামাত্র। অন্যদিকে খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি নিঃসন্তান হওয়ায় তাকে কবিরাজি চিকিৎসার অজুহাতে চরম মানসিক ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় এবং একপর্যায়ে নির্দ্বিধায় তালাক দিয়ে ছুড়ে ফেলা হয়। খালেক ব্যাপারীর কাছে নারী কেবল তার খেয়ালখুশির মাধ্যম। এছাড়া মজিদ নিজের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে ও কামনা চরিতার্থ করতে অল্পবয়সী জমিলাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে এবং অবাধ্যতার অজুহাতে তাকে মাজারে বেঁধে রেখে অমানবিক শাস্তি দেয়।
অতএব, উদ্দীপক ও 'লালসালু' উভয় প্রেক্ষাপটেই প্রমাণিত হয় যে পুরুষপ্রধান সামাজিক ব্যবস্থায় নারীদের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন না করে ভোগের বস্তু, সেবাদাসী বা অবহেলার পাত্র হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও