‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মন্টেল্কর মতে, সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা অবশ্যই পৃথক হবে এবং বিভিন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা এমনভাবে ব্যবহৃত হবে যেন একটি অপরটির সাথে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রক্ষা করে।

  1. ক)

    'Natio' এবং 'Natus' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    আইনগত স্বাধীনতা কাকে বলে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে তথ্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে- তার বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    কার্যকরী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ইঙ্গিতকৃত তথ্যের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ল্যাটিন শব্দ 'Natio' এবং 'Natus' এর অর্থ হলো 'জন্ম' (Birth) বা 'উৎপত্তি' (Race/Origin)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনগত স্বাধীনতা বলতে রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও বলবৎযোগ্য স্বাধীনতাকে বোঝায়। যে স্বাধীনতা নাগরিকেরা রাষ্ট্রের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ভোগ করে এবং যা অন্য কেউ লঙ্ঘন করলে রাষ্ট্র শাস্তি প্রদান করে, তাকে আইনগত স্বাধীনতা বলে। এটি সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কুর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি (Separation of Powers) এবং নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতির (Checks and Balances) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    এই তত্ত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. অঙ্গসমূহের পৃথকীকরণ: সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথক থাকবে।
    ২. স্বতন্ত্র দায়িত্ব ও ক্ষমতা: এক বিভাগের কাজ অন্য বিভাগ সম্পাদন করবে না; আইন বিভাগ আইন তৈরি করবে, শাসন বিভাগ তা প্রয়োগ করবে এবং বিচার বিভাগ বিচার পরিচালনা করবে।
    ৩. ব্যক্তিবর্গের ভিন্নতা: একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ একাধিক বিভাগের সদস্য হতে পারবে না।
    ৪. অহস্তক্ষেপ নীতি: এক বিভাগ অন্য বিভাগের কার্যাবলিতে কোনো রূপ হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার করবে না।
    ৫. নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য: প্রতিটি অঙ্গ স্বতন্ত্র হলেও তারা এমনভাবে বিন্যস্ত থাকবে যাতে কেউ চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারী হতে না পারে এবং একটি বিভাগ অপর বিভাগগুলোর ওপর নজরদারি রেখে ভারসাম্য রক্ষা করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কার্যকরী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:

    ১. স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারিতা রোধ: কোনো একক ব্যক্তি বা বিভাগের হাতে সরকারের সমুদয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে স্বৈরাচারী শাসনের জন্ম হয়। মন্টেস্কুর এই নীতির ফলে কোনো একক অঙ্গ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে না, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখে।
    ২. নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা: বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগ শাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকলে নাগরিকেরা নির্বিঘ্নে তাদের মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে।
    ৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: বিচার বিভাগ আলাদা ও নিরপেক্ষ থাকলে শাসক দলের অন্যায় হস্তক্ষেপ থেকে সাধারণ জনগণ সুরক্ষা পায়, যা কার্যকরী গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত।
    ৪. দায়িত্বশীলতা ও ভারসাম্য তৈরি: নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য ব্যবস্থার মাধ্যমে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে। যেমন—আইনসভার কাছে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

    সুতরাং, কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিনির্মাণে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য তত্ত্বের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন