ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

পদ্মার ভাঙন কবলিত একদল লোক নদীর অপর পাড়ে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। ও পাড়ের উর্বর ভূমির আশ্রয় প্রদানকারীদের উঠতি নেতা জাহাঙ্গীরসহ প্রায় সকলে মিলে আশ্রিতদের সহযোগিতা করে। কেউ যাতে অসহযোগিতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সেজন্য উভয় পক্ষ মিলে একটি সমঝোতা দলিলও স্বাক্ষর করে। নদীভাঙা আশ্রিতরা আশ্রয়দাতাদের সাথে মিলেমিশে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এলাকাটিকে একটি আদর্শ বসতিতে রূপান্তর করে। কিন্তু এ অবস্থায় এলাকার নেতৃত্ব যোগ্যতার কারণে আশ্রিতদের হাতে চলে যাওয়ায় জাহাঙ্গীর তার কিছুসংখ্যক লোকজনসহ আশ্রিতদের উৎখাতে ষড়যন্ত্র করতে থাকে।

  1. ক)

    প্রাক-ইসলামি যুগে আরববাসীর প্রধান খাদ্য কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    আকাবার শপথ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জাহাঙ্গীরের সাথে মদিনায় কোন ইহুদি নেতার। সামঞ্জস্য দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আশ্রিতদের মতোই মদিনায় মুহাজিরদের অবস্থা ছিল বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাক-ইসলামি যুগে আরববাসীর প্রধান খাদ্য ছিল খেজুর ও উটের দুধ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবুয়তের একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ বর্ষে মদিনার (তৎকালীন ইয়াসরিব) কিছু লোক মক্কার আকাবা নামক গিরিপথে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করে যে আনুগত্য ও সুরক্ষার অঙ্গীকার বা চুক্তি করেন, তাকে ইসলামের ইতিহাসে ‘আকাবার শপথ’ বলা হয়। আকাবার দ্বিতীয় শপথে মদিনাবাসী নবিজি (সা.)-কে জানমাল দিয়ে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা ঐতিহাসিক হিজরতের পথ সুগম করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জাহাঙ্গীরের সাথে মদিনার খাযরাজ গোত্রের নেতা এবং পরবর্তীকালে মুনাফিকদের সর্দার আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের (বা ইহুদি নেতা কা'ব বিন আশরাফ/ইহুদি নেতৃবৃন্দের) গভীর সাদৃশ্য দেখা যায়। তবে নেতৃত্ব হারানোর ক্ষোভে আশ্রিতদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের চরিত্রটি সর্বাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ (কিংবা ইহুদি নেতৃবৃন্দ যারা মদিনা সনদে স্বাক্ষর করেও পরবর্তীতে নবিজির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়)।

    মদিনায় মহানবি (সা.) ও মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে আব্দুল্লাহ বিন উবাই মদিনার অবিসংবাদিত নেতা বা রাজা হতে যাচ্ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের পর মদিনার শাসনভার তাঁর ওপর ন্যস্ত হলে আব্দুল্লাহ বিন উবাই নেতৃত্ব বঞ্চিত হয়ে হিংসা ও ঈর্ষায় কাতর হয়ে পড়ে। সে আপাতদৃষ্টিতে সহযোগিতা ও চুক্তি মেনে নিলেও গোপনে গোপনে মুসলিমদের উৎখাত ও ক্ষতিসাধনে মক্কার কুরাইশ ও মদিনার ইহুদিদের সাথে ষড়যন্ত্র শুরু করে। উদ্দীপকের জাহাঙ্গীরও প্রথমে আশ্রিতদের আশ্রয় দেয় ও সমঝোতা দলিলে স্বাক্ষর করে, কিন্তু আশ্রিতদের যোগ্যতায় নেতৃত্ব হাতছাড়া হওয়ায় সে তাদের উৎখাতে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। তাই জাহাঙ্গীরের আচরণ আব্দুল্লাহ বিন উবাই ও মদিনার চুক্তিভঙ্গকারী ষড়যন্ত্রকারী নেতাদের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আশ্রিতদের মতোই মদিনায় নবাগত মুহাজিরদের অবস্থা ছিল— এ উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    মক্কার কুরাইশদের অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়ে সর্বস্ব ত্যাগ করে মহানবি (সা.)-এর নির্দেশে সাহাবিগণ মদিনায় হিজরত করেছিলেন। মদিনায় তারা ‘মুহাজির’ (আশ্রিত বা হিজরতকারী) নামে পরিচিত হন। তাদের এই অসহায় অবস্থায় মদিনার মুসলিমরা (আনসার বা সাহায্যকারী) তাদের পরম আন্তরিকতায় বরণ করে নেন। উদ্দীপকে যেমন নদীভাঙা আশ্রিতরা আশ্রয়দাতাদের সহযোগিতায় একটি আদর্শ বসতি গড়ে তোলে, তেমনি রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব ‘মুওয়াখাত’ বা ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। আনসারদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় এবং মুহাজিরদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সততায় মদিনা একটি সুসংগঠিত, শান্তিময় ও আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়।

    পরবর্তীতে মদিনা সনদের মাধ্যমে সেখানে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মহানবি (সা.) ও মুহাজিরদের সততা, যোগ্যতা ও প্রজ্ঞার কারণে মদিনার সার্বিক নেতৃত্ব তাদের ওপর অর্পিত হয়। তবে এর ফলে স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী নেতা যেমন নেতৃত্ব হারিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে, উদ্দীপকের আশ্রিতরাও জাহাঙ্গীরের ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছিল। সার্বিক দিক থেকে উদ্দীপকের নদীভাঙা আশ্রিতদের সংগ্রামী ভূমিকা ও পরিস্থিতির সাথে মদিনার মুহাজিরদের অবস্থার পূর্ণ মিল রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন